কোরবানির ঈদের আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। এরই মধ্যে ঢাকার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে খামারি ও বিক্রেতারা নিয়ে আসছেন নানান জাতের ও নানান আকারের গরু। কেউ পরম যত্নে লালন-পালন করা পশুর নাম দিচ্ছেন ‘কালা পাহাড়’, কেউবা ‘আলফা’। ঠিক তেমনি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী হাটের আনা হয়েছে দানবীয় গড়নের এক গরু, খামারিরা যার নাম দিয়েছেন ‘রাজাবাবু’। সাড়ে ১১০০০ কেজি ওজনের এই বিশাল আকৃতির রাজাবাবুর দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।
আজ (শনিবার) দুপুরে দিয়াবাড়ী হাট ঘুরে দেখা যায়, হালকা সাদা-গোলাপি আর কালো রঙের এক দানবীয় আকৃতির গরু শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ১০ নম্বর শেডে। গলায় পরানো মোটা সোনালী রঙের চেইন আর রাজকীয় ভাবভঙ্গি দূর থেকেই নজর কাড়ছে সবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরুটি বিক্রির জন্য হাঁটে তুলেছে অ্যাগ্রো ফার্ম আহমেদ রেঞ্জ। খামারি মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম জানান, আদর করে নাম রাখা ‘রাজাবাবু’কে আনা হয়েছে আশুলিয়া থেকে। প্রায় সাড়ে ১১০০ কেজি (২৮ থেকে ২৯ মণ) ওজনের এই গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা, যা তাদের খামারের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ দামের পশু। বিশাল দেহের এই রাজাবাবুকে ঘিরে হাটে আসা উৎসুক মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ক্রেতারা রাজাবাবুর দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলেছেন। তবে আমাদের টার্গেট ১৫ লাখ টাকা পেলেই নতুন মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সেরা আকর্ষণ। আশা করছি সামনের বাকি দিনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত দামেই বিক্রি হবে রাজাবাবু।
এই শেডে শুধু রাজাবাবুই নয়, নজর কাড়ছে আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় পশু। খামারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে নেত্রকোনা থেকে আনা ‘আলফা’ এবং ‘শিব্বি উলবারী’ নামের দুটি গরু, যেগুলোর প্রতিটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা করে। এছাড়া ক্রেতাদের বাজেট ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে এই শেডে ৭ লাখ টাকা দামের মাঝারি গরুর পাশাপাশি সর্বনিম্ন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দেশি গরুরও ভালো সরবরাহ রয়েছে।
এদিকে দিয়াবাড়ী হাটের চারপাশ ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাহারি সব গরুর সমাহার। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহী থেকে খামারিরা বিপুল পরিমাণ গরু নিয়ে এসেছেন এই হাটে।
খামারিরা জানান, সারা বছর সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, কুঁড়া, ভুসি আর সবুজ ঘাস খাইয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই পশুগুলোকে বড় করা হয়েছে। কারণ, উত্তরাঞ্চলের গরুগুলোর সুঠাম দেহ এবং আকর্ষণীয় গড়নের কারণে প্রতি বছরই ঢাকার হাটে এগুলোর আলাদা কদর থাকে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি সামিউল ইসলাম বলেন, সারা বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে চারটা বড় সাইজের গরু তৈরি করেছি। ঢাকার হাটে আনতেই অনেক খরচ আর ঝক্কি পোহাতে হয়। ক্রেতারা এসে দাম তো বলছেন, কিন্তু এখনো আসল কাস্টমার পাচ্ছি না যারা গরুর সঠিক মূল্যটা বুঝবেন। তবে আমরা আশাবাদী, ঈদের তো এখনো তিন-চারদিন বাকি। ঢাকার মানুষ সাধারণত শেষ মুহূর্তে এসে বেশি কেনাকাটা করে। আশা করছি ভালো দামেই গরুগুলো বিক্রি করতে পারব।
পাবনার সাঁথিয়া থেকে আসা ব্যাপারী রইস উদ্দিন বলেন, আমি এবার হাটে মাঝারি সাইজের দেশাল (দেশি) গরু এনেছি ৮টি। এই সাইজের গরুর চাহিদা বাজারে সবসময়ই বেশি থাকে। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দরদাম করছেন। গতকাল একটা বিক্রি করেছি, আজকে এখনও তেমন দরদাম হয়নি। হয়ত দুপুরের পর থেকে কাস্টমার বাড়বে। আমি আশা করি আগামী দুই দিনেই সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
অন্যদিকে, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতাও চোখে পড়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাটে র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিমও দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া হাটের পরিবেশ ঠিক রাখা ও ক্রেতাদের সহায়তার জন্য ইজারাদারদের নিজস্ব বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা গেছে।


