রোগী ভর্তি হয়েছিল মেরুদণ্ডে হাড়ের ব্যথা নিয়ে। ডাক্তারের পরামর্শে কথা ছিল করবেন অপারেশন। কিন্তু রোগীর পূর্বের অবস্থা না জেনেই অপারেশন থিয়েটারে নিতে নির্দেশ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মো. মাহ্ফুজুর রহমান। এতে হাড়ের অপারেশনের জন্য ইনিস্থেশিয়াই কাল হল রোগীর। ডাক্তারের ভুলে মারা গেছে রোগী।
গত শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে এভাবেই মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন মোসা. রেহানা (৫৮) নামে এক নারী।
এদিকে নিহতের ভাই বাবুগঞ্জ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম লাবুর অভিযোগ, হাতুড়ে ওই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আজ মরতে হলো আমার মেঝ বোনকে।
মাসুদ করিম আরও বলেন, আমার মেঝ বোন সামান্য মেরুদণ্ডের ব্যথা নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু কোন রকম হিস্ট্রি যাচাই না করেই রাতে অপারেশনের জন্য তাকে ইনিস্থেশিয়া দেয়া হয়। এরপর আর তার জ্ঞান ফেরেনি। সকালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের ভুল চিকিৎসায় আমার বোন মারা গেছে।
এসময় কতর্পক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকা সত্বেও তারা রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে গেলো কেন?
এই মৃত্যুর পর নিহতের ছোটভাই ঢাকা কলেজের পদার্থ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুর করিম রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, মেঝ ভগ্নি ইন্তেকাল করেন তাদের ভুল চিকিৎসার জন্য। এই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকা সত্বেও রোগীদের ভুলভাল বুঝিয়ে নিউরোসহ অনেক ধরনের সার্জারি করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এই হাসপাতালের মালিক মরহুম আনোয়ার সাহেব তিনি নিজেই করোনাকালীন সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নিজেই অদক্ষ ডাক্তার বিধায় নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুর আগের দিন রাত পর্যন্ত অপারেশন করেন।
ওই মালিক দালাল নির্ভর প্র্যাকটিস করতেন। সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা অপারেশন করতেন। এভাবে তিনি অনেক রোগীকে মেরে ফেলেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সেই অবস্থা এখনও বিদ্যমান বলে জানান রিয়াজ।
তার বোনের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে এই ভুক্তভোগী বলেন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীকে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইসিইউ সুবিধা ছাড়াই সংজ্ঞাহীন করা হয়। অপারেশনের টেবিলেই তার মৃত্যু হয়।
এসসয় তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া দাবি জানান।


