করোনা মহামারির ৩ বছর পর বিদেশিদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলো চীন। আজ থেকে অন্য দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য আর কোয়ারেন্টাইনের বিধিনিষেধ থাকছে না। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় চীনা নববর্ষ ঘিরে দেশটিতে আগামী ৪০ দিনে দুইশ কোটি মানুষ ভ্রমণ করবে বলে জানিয়েছে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়।
করোনা মহামারি প্রতিরোধে বিগত তিন বছর কঠোর জিরো কোভিড নীতি মেনে চলেছে চীন। বন্ধ ছিল দেশটির সীমান্ত। বিদেশ ফেরতদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল কোয়ারেন্টাইন।
অবশেষে রবিবার (৮ জানুয়ারি) তিন বছর পর ভ্রমণকারীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলো চীন। এদিন থেকে আর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না বিদেশ ফেরতদের। এর মাধ্যমে করোনার বিধিনিষেধকে বিদায় জানালো দেশটি।
ইতোমধ্যে প্রথমবারের মতো শনিবার মধ্যরাতে গুয়াংজু এবং শেনজেন বিমানবন্দরে নতুন এ নিয়মে যাত্রীরা অবতরণ করেছে। রোববার হংকং থেকে যাত্রীরা চীনে আসা শুরু করেছে। অনেকে করোনার বিধিনিষেধ থাকায় এতদিন তা পারেনি। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। শুধু হংকং থেকে প্রায় ৪ লাখ মানুষ অপেক্ষায় আছে চীনের মূল ভূখণ্ডে ভ্রমণের জন্য।
বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা একজন বিবিসিকে জানান, তিনি ৫ বছর ধরে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেখেন না। চীনে যাওয়ার টিকিট পেয়ে তিনি তার আনন্দ ধরে রাখতে পারছেন না।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এক নারী বলেন, সে কয়েক বছর ধরে তার বাবা মাকে দেখেন না। যদিও একজন ক্লোন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এখন সে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে খুবই আনন্দিত। খুবই খুশি।
এদিকে শনিবার থেকে দেশটিতে শুরু হয়েছে চুন ইয়ুন, যা চলবে আগামী ৪০দিন। দেশটির চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে এ বছর চুন ইয়ুন চলাকালীন সময়ে ২০০ কোটি মানুষ ভ্রমণ করবেন চীনে। এ কথা জানিয়েছে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়। যা ২০২২ সালের তুলনায় ৯৯ দশমিক ৫ ভাগ বেশি।
এ ছাড়া, আগে পাবলিক ভেন্যুগুলোতে বা বড় জমায়েতে যোগ দিতে বাধ্যতামূলক পিসিআর কোভিড পরীক্ষা করতে হতো। এই নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র হাসপাতাল এবং স্কুলে যেতে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। ভ্রমণকারীদের ভ্রমণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর কোভিড পরীক্ষার নেগেটিভ রেজাল্টের সনদ দেখাতে হবে।
তবে কোটি মানুষের ভ্রমণ করার বিষয়টিই এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এর কারণে করোনার সংক্রমণ বাড়বে চীনে।
এদিকে চীনে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নিজ দেশের নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া সেখানে ভ্রমণ না করতে নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি।
গত ডিসেম্বরে দেশটির এই কঠোর জিরো কোভিড নীতির বিরুদ্ধে ব্যfপক বিক্ষোভ হলে বিধিনিষেধ শিথিল করতে বাধ্য হয় চীন সরকার। তবে এরপর থেকেই দেশটিতে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার।


