ঢাকাFriday , 28 April 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাছ-মুরগির দাম চড়া, সবজিতে স্বস্তি

Link Copied!

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানী এখনো অনেকটাই ফাঁকা। কাঁচা বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এখনো তাদের দোকান খোলেননি। ঈদের আগ মুহূর্তে গরুর মাংসের দাম এক লাফে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছিল, সেটিই এখনো স্থিতিশীল আছে। মুরগির বাজার অস্থিরতার মধ্যেই রয়ে গেছে। কখনো ব্রয়লারের দাম কমে তো কখনো আবার হুট করে বেড়ে যায়। ঈদের আগ থেকে শুরু করে এখনো ব্রয়লারের বাজার উত্তপ্তই রয়ে গেছে।

তবে সবজির বাজারে আগের তুলনায় স্বস্তি ফিরেছে। ঈদের পর প্রতিটি সবজির দামই কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে।

রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের দাম ঈদের পরে বেড়ে গেছে। এক কেজি গরুর মাংস কিনতে ক্রেতাকে এখন গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা, যা ঈদের আগের সপ্তাহেও দাম ছিল ৭৫০ টাকা। এই মাংসের দাম এক লাফে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। মাংস বিক্রেতারা বলছেন, গরুর মাংসের এই দাম কোরবানির ঈদের আগে আর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বাড্ডা বাজারের সততা হালাল গোস্ত বিতানের ব্যবসায়ী জসীম বলেন, ‘আমাদের বেশি দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে। তাই মাংসের দামও কেজিতে বেড়েছে। দাম বাড়লে আমাদের বিক্রি কম হয়। আমরা তো ইচ্ছা কইরা দাম বাড়াই না। গরুর খাবারের দাম বাড়ছে, সে ক্ষেত্রে এর পালনের খরচও বাড়ছে। একটা গরুর পিছনে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার খরচ আছে। সে জন্য মাংসের দামে এর প্রভাব পড়ে। এই দাম কোরবানির আগে আর কমবে বলে আমার মনে হয় না।’

একই বাজারে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫টা মাছের দোকানের মধ্যে মাত্র দুইটা দোকান খোলা। বাকিগুলোয় কেউ এখনো বসেনি। অন্য বাজারে বিক্রেতারা বসলেও ক্রেতা তেমন একটা নেই। ঈদের ছুটি কাটিয়ে এখনো ঢাকায় ফেরেনি অনেক মানুষ। তাই বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার অভাব টের পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগে বিক্রি হওয়া সবজিগুলোর দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে, টমেটো ৪০ টাকা, ঢ়েঁড়স ৪০ টাকা, ফুলকপি আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, ছোট দেশি করলা ৬০ টাকা কেজি, লেবুর হালি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা মাসুম রহমান বলেন, ‘ঈদের পর প্রায় সব সবজির দামই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। ঈদের আগে আমরা যেসব সবজি বিক্রি করেছি, এখন সেগুলোর ক্রেতা কম হওয়ায় আর পচনশীল হওয়ায় দাম কমে গেছে। এই দাম আরও কিছুদিন কমের মধ্যেই থাকবে।’

মাছের দাম স্থিতিশীল
ঈদের আগে থেকেই যে মাছের দাম চড়েছিল, সেই দাম এখনো স্থিতিশীল আছে- যদিও এখনো রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি বসেননি। কয়েকজন ব্যবসায়ী বললেন, ঈদের পর মুরগির পাশাপাশি মাছের চাহিদা বেশি ছিল। তাই মাছের দাম আর কমেনি। তা ছাড়া চাহিদা অনুযায়ী মাছের সরবরাহও কম।

বাজারে দেখা গেছে, রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৪০ টাকা, শিং মাছ ৪৬০ টাকা, কাতলা প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পোল্ট্রির দামও চড়া
ব্রয়লার মুরগির দাম নিয়ে কয়েক দিন হট্টগোল চলছিল। তারপর বাজারে অভিযান চালানোর পর দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। তখন কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে এ দাম ঈদের পর আবার এখন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ টাকা আর ‘কক’ মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে।

রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদে ব্রয়লারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছিল। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ছিল না। আর এমনিতেও আমাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আমরা কেজিতে লাভ করি ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন আমাদের কেনাই পড়তেছে ২৩২ টাকা কেজি। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২৪০ টাকা বিক্রি করব। যখন দাম কমেছিল তখন আমাদের কেনা পড়ত ১৯২ টাকা, আমরা বিক্রি করতাম ২০০ টাকা কেজি। কোরবানির ঈদের আগে এই দাম কমবে বলে মনে হয় না। কোরবানির পর কিছুটা কমতে পারে।’

নিউজটি শেয়ার করুন