:: নগর প্রতিদিন ডেস্ক ::
অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে প্রায়ই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে দেশটির মানুষের। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এ সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই জন্মভূমির মায়া ছেড়ে দিয়েছেন ভেনিজুয়েলানরা। পথে ডাকাতের আক্রমণের ঝুঁকি আর প্রাণঘাতী রোগের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই পাড়ি দিচ্ছেন সীমান্ত। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশী অভিবাসীদের লক্ষ্য চিলি। ইউএন নিউজ।
জনি (২৬) তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী ক্রিবসেল (১৯) তাদের দুই সন্তানের সঙ্গে চিলির একটি অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসে আছেন। তিন হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতা এবং হিমায়িত জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এখানে এসে পৌঁছেছেন তারা। তারা বলিভিয়া থেকে এখানে পৌঁছেছেন পাঁচ ঘণ্টা ভ্রমণের পর। তাদের দুই মাসের অভিযাত্রার এটাই ছিল শেষ স্টেশন। আর এখানে পৌঁছাতে বিভিন্ন পর্যায়ে তারা হেঁটেছেন পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ, পার হয়েছেন ভেনিজুয়েলা, কলোম্বিয়া, পেরু, বলিভিয়া এবং চিলির পাঁচটি সীমান্তক্রসিং। পাঁচ দেশের এ দীর্ঘ মরু-জঙ্গলপথে এক প্রকার অলৌকিকভাবেই বেঁচে গেছেন বিপজ্জনক অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে। শীতে কাঁপতে কাঁপতে জনি বলছিলেন, ‘এমন ঠাণ্ডা আবহাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।’ ভেনিজুয়েলায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন জনি। কিন্তু চাকরি হারিয়ে পথে বসে গিয়েছিলেন। তাই আন্দিয়ান পার্বত্য অঞ্চল পেরিয়ে প্রথমে কলম্বিয়ায় পৌঁছান তারা। এরপর পাড়ি দেন ইকুয়েডর, পেরু ও বলিভিয়ার দীর্ঘ পথ। আর এ দীর্ঘ যাত্রায় তাদের পকেটের সঙ্গী ছিল মাত্র ৪৫০ ডলার। পরিবারটির গল্প এই অভিবাসন রুটের বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে লোকেরা এ রুটটি ব্যবহার করেন। কোথাও বাসে, কোথাও ট্যাক্সিতে কিংবা কোথাও হেঁটে পার হতে হয় অভিবাসন প্রত্যাশীদের।


