ঢাকাWednesday , 10 January 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে আশা যোগাচ্ছে চীনা কোম্পানি নিউ হোপ লিউহো

Link Copied!

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের ভাংনাহাটীতে এক নান্দনিক পরিবেশে গড়ে উঠা গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মাছের ফিড উৎপাদনকারী চীনা কোম্পানি নিউ হোপ ফিড মিল বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের কৃষি খাতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।যা বিশ্বের বৃহত্তম ও স্বনামধন্য ফিড উৎপাদনকারী চীনা কোম্পানি নিউ হোপ লিউহো’র বিনিয়োগ করা আধুনিক ফিড মিল।২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিড মিলটির উৎপাদিত ফিডের উৎকৃষ্ট গুণমানের কারণে দেশের জনগণের কাছে ব‍্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে।
একদল চীনা বিশেষজ্ঞ দলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দক্ষ প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী কর্তৃক মান সম্পন্ন কাঁচামাল ও উন্নত আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ফিড গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মৎস্য সেক্টরে যুগিয়েছে আশার আলো।দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রেখে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।মূলত নিউ হোপ লিউহো ১৯৮২ সালে (তালিকাভুক্ত১৯৯৮) প্রতিষ্ঠার পর কৃষি ও পশুপালনে চীনের বৃহৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি বাংলাদেশ, নেপাল,ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর,মিশরসহ বিশ্বের ২০টির অধিক দেশে বিনিয়োগ ও ব‍্যবসা পরিচালনা করে আসছে।তাদের সর্বমোট কর্মীবাহিনীর সংখ্যা ৮২ হাজার।এর মধ্যে বেশ কিছু দেশ নিয়ে ৭টি অঞ্চলে ফিড উৎপাদন ও ব‍্যবসার সাথে জড়িত নিউ হোপ।বাংলাদেশ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে নিউ হোপ ফিড মিল বাংলাদেশ লি:,নিউ হোপ এনিমেল নিউট্রেশন বাংলাদেশ কোং লি:,নিউ হোপ এগ্ৰো বিজনেস নেপাল প্রাইভেট লি: এবং নিউ হোপ লংকা লি:।এছাড়াও নিউ হোপ ফার্মস বাংলাদেশ লি: নামে ময়মনসিংহের ভালুকায় রয়েছে বহি‍ঃবিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইনকিউবেশন এবং পাঁচটি ব্রিডার ফার্ম।নিউ হোপ বাংলাদেশ অঞ্চলে মোট ৫০জন চীনা কর্মী এবং ৭০০ জনেরও বেশি স্থানীয় কর্মী রয়েছে।বাংলাদেশ অঞ্চলের (বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন চীনা বিশেষজ্ঞ হি কোয়ান শুই (He Quan Shui)।বাংলাদেশ অঞ্চলের অধীন গাজীপুরে নিউ হোপ ফিড মিল বাংলাদেশ লি:-এ মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে ঝাউ ইউশেন(Zhou Yushen) এবং বিভাগ প্রধান সিউয়ান লি (Siyuan Li) সহ একটি চৌকস পেশাদার চীনা ব‍্যবস্থাপনা দল রয়েছে।যারা ব‍্যবহারিক ফিড উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক ব‍্যবস্থাপনায় সুদক্ষ।তাঁরা এখানে ২৫০জনেরও বেশি বাংলাদেশী কর্মীকে নেতৃত্ব দিয়ে গুণগত মানসম্পন্ন ফিড উৎপাদনে তৎপর রয়েছেন।২০০৬ সালে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও উৎপাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে।৮.২৩ একর এলাকা বিস্তৃত ফিড মিলটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৬ হাজার মেট্রিক টন।বিনিয়োগের পরিমাণ ১২.৩৩ মিলিয়ন ডলার।সম্প্রতি ফিড মিলটির কারখানা পরিদর্শনে যেয়ে দেখা যায় কাঁচামাল সংগ্ৰহসহ উৎপাদনের প্রতিটি স্তরেই যথাযথভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে শ্রমিকদের জন্য রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপন ব‍্যবস্থা।এখানকার প্রত‍্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই বন্ধুত্বসুলভ।তাঁরা প্রত‍্যেকেই নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে চলেছেন।কারখানাটিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ কেমিক্যাল ল‍্যাবরেটরী ও বায়ো-ল‍্যাব।নিউ হোপের কারখানায় উৎপাদিত ৩০ টির অধিক পণ্যের গুণমান উৎকৃষ্ট ও দামে সহজলভ্য হওয়ায় স্থানীয় ব‍্যবসায়ী, খামারী ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে নিউ হোপ ব্রান্ড ব‍্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।প্রতিনিয়ত ব‍্যবসায়ী, খামারী ও কৃষকদেরকে নিউ হোপ কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।ফলে গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মৎস চাষে অধিক লাভের মুখ দেখছেন কৃষক।স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন তারা।নিউ হোপের ফিড অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেক অসচ্ছল পরিবারে ফিরে এসেছ সচ্ছলতা।কেউ কেউ পতিত জমিতে গড়ে তুলেছেন গবাদিপশু, পোল্ট্রি খামার ও মাছ চাষের পুকুর।ফলে কৃষি ক্ষেত্রে সাধিত হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।অন‍্যদিকে চীনা কোম্পানি নিউ হোপ বাংলাদেশেও তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।নিউ হোপের বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট হি কোয়ান শুই( He Quan Shui) একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, নিউ হোপ ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে এবং ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আমার কর্মজীবন শুরু করেছি।বর্তমানে বাংলাদেশে আমাদের চারটি কোম্পানি রয়েছে যেগুলো ভালোভাবে চলছে এবং সরকার,দূতাবাস ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।আমরা এর জন্য আমাদের মহান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।বর্তমানে বাংলাদেশে আমাদের ফিড উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৪৮০,০০০ হাজার মেট্রিক টন।যার গুণমান বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের কাছে ব‍্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে।ইতিমধ্যে আমরা আমাদের স্থানীয় কর্মচারীদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব‍্যাবস্থা করেছি,ইএমবিএ কোর্স শেখার জন্য কর্মীকে চীনে পাঠিয়েছি।আমরা উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ‍্যমে পণ‍্যের গুণমানের উপর জোর দিই।তাই আমাদের পণ‍্যগুলি বাজার এবং বিশেষ করে কৃষকদের কাছ থেকে ভালো এবং দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।আমি বিশ্বাস করি উপরের ফলাফল আমাদের উন্নত ব‍্যবস্থাপনা পদ্ধতি থেকে এসেছে।তিনি আরো বলেন, আরেকটি বিষয় হলো সামাজিক দায়বদ্ধতায় আমাদের অবদান।গত দুই বছরে মহামারী চলাকালীন আমরা কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম, মাস্ক এবং কিছু ঔষধ সমাজকে দান করেছি।একইসঙ্গে কিছু স্কুলকেও কিছু সাহায্য দিয়েছি।উপরন্তু আমরা আমাদের কিছু কৃষকদের সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি।তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব‍্যাংক (ADB) এর সাথে এই প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করছি এবং স্থানীয় কৃষকদের একসাথে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।২ হাজার ৪১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ৭ হাজার ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া।তিনি আশাবাদ ব‍্যক্ত করে বলেন, কৃষকদের জন্য আমাদের পরিষেবা এবং পণ্যের গুণমানের মাধ্যমে স্থানীয় ফিড শিল্পের বিকাশ বা সাহায্য করতে পারব।অন‍্যদিকে আমারা সক্রিয়ভাবে সামাজিক দায়িত্ব গ্ৰহণ করি এবং সমাজে অবদান রাখি।

নিউজটি শেয়ার করুন