লন্ডন প্রবাসী মো: সাইফুল ইসলামের কুমিল্লার নালিতাপড়া(সাপমারা) গ্রামের বাড়ীতে ফের দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগও করেছে। এই হামলায় সাইফুলের ভাই সালাউদ্দিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মো. সাইফুল ইসলাম মেঘনা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রিপন মিয়া ও বিলকিছ আক্তারের সন্তান।
গতকাল সন্ধ্যায় আনুমানিক ৯.৩০ টায় স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার সমর্থকগোষ্টি জোরপূর্বক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং অকস্মাৎ আক্রমণ করে বাড়ীর আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এক পর্যায় সাইফুলের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ঠেকাতে গেলে তাকে মারধোর করে এবং অবশেষে একজন দুর্বৃত্ত রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ সময় সাইফুলের বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। অবশেষে এলাকার লোক জড় হতে লাগলে, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে প্রস্থান করে।
এলাকার সাবেক মেম্বর, রশিদ জানান, সাইফুল ইসলামের সাথে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার পূর্বশক্রতা ছিল এবং এর আগে সাইফুলকে হত্যা করার জন্য তিনি কয়েকবার চেষ্টা করেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া সাইফুলকে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতি করতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার লোকজন সক্রীয়ভাবে সাইফুলকে খুঁজতে থাকে। এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাইফুলের বাড়িতে আক্রমণ করে লুটপাট করেন। ধরে নেয়া হচ্ছে, সেলিম ভূইয়ার লোকজন লুটপাট করেছিল। গতকাল সন্ধায় সেলিমের গুন্ডাবাহিনী সাইফুলকে খুজতেই এই হামলা চালায়। সাইফুলের ভাই ও বাবা দুইজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ফেব্রুয়ারিতেও সাইফুলের বাসায় হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এই নিয়ে এই খেলাফত মজলিস নেতার বাসায় তৃতীয়বারের মত হামলা চালানো হলো।
স্থানীয় সূত্রে থেকে জানা যায়, অগ্নিসংযোগের ফলে সাইফুলের বাড়িতে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাড়ির অন্যান্য সদস্যগণ কোনরকম জীবন বাচিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এখব পর্যন্ত কেউ বাড়িতে ফিরে আসেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন জানান, সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় সেলিম ভূইয়ার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এবং সেলিম ভূইয়া প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে সাইফুলকে হয়রানি করতে থাকে। সাইফুল দেশের বাইরে চলে গেলে সেই দ্বন্দের অবসান হয়েছে বলে ধারণা করা হত। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেলিম ভূঁইয়ার প্রতিশোধ স্পৃহা বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, সেলিম ভূঁইয়া স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা যিনি বহু খুনের সঙ্গে জড়িত। দূরবৃত্তরা চলে যাওয়ার আগে এই বলে চিৎকার করতে থাকে যে সাইফুল বাঘের লেজে পা দিয়েছিল এবং তাকে এর খেসারত দিতে হবে এবং সাইফুলের শেষরক্ষা হবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে থাকাকালীন সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং রাজনীতিতে নিজেকে একটা শক্ত অবস্থানে দাড় করান।
সাইফুল সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাইফুল লন্ডনে বসে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি করেন। এতে অনেকের গাত্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং তাকে চাপে রাখতে এই হামলা হতে পারে বলে এলাকার অনেকেই মনে করেন।
উল্লেখ্য, দেশে থাকাকালীন ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বরে সাইফুলের উপর প্রথমবার হামলা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিলে তাকে গুম করা হয়। তিন দিন পরে অচেতন অবস্থায় তাকে রাস্তাপাশ থেকে উদ্ধার করেন পরিবারে লোকজন। এই অবস্থায় সাইফুলের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন নিরাপত্তাহীনতায় অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে।
এ ব্যাপারে সাইফুলের পরিবার মেঘনা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কোন আজানা কারণে এই রিপোর্ট নিয়ে অস্বীকৃতি জানায়। আমাদের প্রতিবেদক মেঘনা থানায় যোগাযোগ করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন।


