ঢাকাTuesday , 22 October 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এজলাস ছাড়লেন ৬ বিচারক !

Link Copied!

চট্টগ্রাম আদালতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতের ঘটনায় একটি হত্যাচেষ্টার নালিশি মামলা দায়েরের শুনানিতে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীর বাকবিতণ্ডা হয়েছে। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহ এজলাস থেকে নেমে যান। এরপর বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৬ বিচারক একযোগে এজলাস ছেড়ে চলে যান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শতাধিক আইনজীবী সিএমএম আদালতের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের কেউ কেউ বিচারককে উদ্দেশ্য করে নানা স্লোগান দেন। পরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুরের পর বিচারকরা ফের বিচার কাজ শুরু করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, গত ১৭ জুলাই নগরের মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শোয়াইবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ১২৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করতে যান। তাঁর আইনজীবী ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নবনিযুক্ত জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক। তিনি মামলার শুনানি করেন। এ সময় বাদীর আইনজীবী মামলাটি গ্রহণ করে থানায় এজাহার হিসেবে নিতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আইনজীবীর পর আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে মামলায় থাকা আসামিদের নাম জানতে চান।
কিন্তু বাদী কয়েকজনের নাম বলে থেমে যান। তখন আইনজীবী আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, এভাবে সবার নাম বলা সম্ভব নয়। আমাদের বক্তব্য আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে মামলাটি গ্রহণের জন্য বলেন। তখনই বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। একপর্যায়ে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক অলি উল্লাহ। তারপর অন্য বিচারকরা তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এজলাস থেকে নেমে যান। পরে মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
দুপুর ২টার পর বিচারকরা ফের এজলাসে উঠে বিচার কাজ শুরু করেন। বাদীর আইনজীবী চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত একজন ভুক্তভোগী মামলা করতে এলে থানায় এজাহার হিসেবে নিতে বিচারকের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু বিচারক বাদীর কাছে আসামিদের নাম জানতে চান।
এভাবে সব আসামির নাম বলা সম্ভব নয়। আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তা মেনে নেই। তারপর আমাকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন। বিচারকের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়েছে এটুকু।সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী এসএম শফিউল আজম এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গত দুই মাসে এজলাসে হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডার কারণে তিন বার বিভিন্ন আদালতের বিচারক বিব্রতবোধের কারণে এজলাস ছেড়েছেন। এ ঘটনায় দুই বিচারক স্বেচ্ছায় চট্টগ্রাম থেকে বদলীয় হয়ে অন্যত্র চলে যান বলে বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন