স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। আজ বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধদের তালিকা মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তিনি বা তাঁর সচিব মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর এ রকম কোনো তালিকা পাননি। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এ রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধদের তালিকা করা অসম্ভব।
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করতে গিয়েই মন্ত্রণালয় হিমশিম খাচ্ছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক’।
প্রসঙ্গত, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এ দেশের রাজাকার, শান্তি কমিটি, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে পথঘাট চেনাতে ও মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছে; চালিয়েছে নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ৭৮৯ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠকের নামও পাওয়া যায়, যাদের অনেকে আবার নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে আসছেন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশিত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে রাজাকারের তালিকা সরিয়ে ফেলা হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তখন বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এ তালিকা প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকবে। কিন্তু এরপর ২৭ মাস পার হলেও তালিকা প্রণয়নের কাজই শুরু করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।


