ঢাকাSaturday , 11 November 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল- ২ : স্মার্ট প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ, সংকটে বিএনপি

Link Copied!

দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর নির্বাচন সামনে রেখে তারুণ্য নির্ভর মেধাবী ও স্মার্ট প্রার্থীদের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে বিএনপি এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি খুব একটা সামনে আসছে না।

বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল – ২ সংসদীয় আসনের সরজমিন চিত্র এরকমই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি মো. শাহে আলম এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের নির্বাচনী তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন।
দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এবারেও তার নাম রয়েছে আলোচনায়।

এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তার জন্য প্রশংসা রয়েছে , একইসঙ্গে তার অনুসারীদের বেশ কিছু বিতর্কিত কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে দূরত্ব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, মো. শাহে আলমের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার মতবিরোধ থাকলেও সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তাছাড়া, ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি হওয়ায় কেন্দ্রেও তার অবস্থান বেশ মজবুত।

এবারও মনোনয়ন চাইবেন কি না, কিংবা মনোনয়নের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে নিজের অবস্থান এখনো স্পষ্ট করেননি সাবেক এ ছাত্রনেতা। তবে এলাকায় বিভিন্ন সমাবেশে তিনি বলছেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করবেন। একইসঙ্গে এ কথাও বলছেন-আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিবে, তার পক্ষেই কাজ করবেন তিনি।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন হালদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষিত ও তরুণ সমাজের কাছে তিনি ক্লিনি ইমেজের একজন স্মার্ট নেতা হিসেবে সমাদৃত।

সুজন হালদার ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। কেন্দ্রের নির্দেশে অবশ্য তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার কাজে অংশ নেন।

একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দেশব্যাপী জনমত গঠনে এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও দেশদ্রোহী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি সংগঠনের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতাদের স্নেহভাজন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও
এলাকায় ব্যক্তিগত প্রচার-প্রচারণায় তার উপস্থিতি সীমিত বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল পর্যায়ে স্মার্ট নেতৃত্ব প্রয়োজন।

সেই বিবেচনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন সুজন হালদার।

আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের রুটিন কর্মসূচিতে মাঝে মধ্যে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানোয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ-পদবীধারী নেতা ব্যতীত কর্মী সমর্থক কিংবা জনগণের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত তার সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন- সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রুবিনা মিরা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী একে ফাইজুল হকের ছেলে ফাইয়াজুল হক রাজু।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রভাবশালী দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় জনপ্রিয়তা কমলেও কেন্দ্রে বড় ধরনের অভিযোগ নেই বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহে আলমের বিরুদ্ধে। সেই বিবেচনায় তিনি এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন।

কেন্দ্রের প্রভাবশালী এই দুই নেতা জানান, বিকল্পপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন সুজন হালদার।
বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সুজন হালদারকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে কেউই মুখ খুলছেন না।

তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুই প্রার্থী হবেন বলে বিএনপি স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র বাইরে বরিশাল-২ আসনে অন্যান্য দলের কোনো কার্যক্রম কিংবা অবস্থান না থাকায়, দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-সকলের অভিন্ন প্রত্যাশা; তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের কাছ থেকে স্মার্ট ও ডায়নামিক প্রার্থী পাবেন।
যেখান থেকে তারা বেছে নেবেন তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি।

নিউজটি শেয়ার করুন