সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির কে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে কেন সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো তাকে? স্থানীয়রা বলছে মাহাবুব হোসেন সামির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেওয়ায় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। সাভারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুমকি পেয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আগে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কে এই শামীম এই প্রশ্নই এখন সাভারের সর্বত্র? শামীম বিগত ফ্যাসিস্ট আমলেও দাপিয়ে মাদক ব্যবসা করতো। তার খুটির জোর হলো সাভার পৌর এলাকার কতিপয় অপেশাদার সংবাদ কর্মী, কতিপয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের একটি অংশ। যা ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী ভাইরাল।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ছাত্রদল কেন সামির কে অব্যাহতি দিলো? সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেট
কিশোর নির্যাতনের ঘটনা সাজিয়ে সামির কে হেয় প্রতিপন্ন করে। অথচ এ ঘটনায় সামিরের কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও অপেশাদার ইউটিউবার ও কথিতরা এ ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে বিষযটি ভাইরাল করে। যার ফলশ্রুতিতে যাচাই বাছাই ছাড়াই তাকে মামলার আসামী করা হয়। কিশোর নির্যাতনে ঘটনা নিয়ে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিজের জন্যও সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নেবেন তিনি।
শনিবার (৭ জুন) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামির বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার মাত্র ২১ দিনের মাথায় কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এক মাস আগে ঘটে যাওয়া কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কিশোর কিংবা তার পরিবারের সদস্যরাও তার নাম উল্লেখ করেননি। এরপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। মাহাবুব সামির বলেন, কিশোর নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত। দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তারও শাস্তি হওয়া দরকার। এমনকি নিজের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি গ্রহণেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান। সামিরের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ওই মাদক ব্যবসায়ী কারাগারে বসেও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ তোলেন।, ‘আমার এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে থাকতে দেব না। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই যদি আমার অপরাধ হয়, তাহলে সেই অপরাধ আমি বারবার করব।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান সামির। তিনি বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেবেন, আর নির্দোষ হলে তার সম্মান ও সাংগঠনিক পদ পুনর্বহালের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের অধীন সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।।


