ব্রিকসের সদস্য পদ না পাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
ব্রিকসের সদস্য পদ পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের কোনো চিন্তা ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ কারণে সদস্য হওয়ার চেষ্টাও করিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ও ব্রিকস সফরে যোগদান সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। এবার তারা কিছু সদস্য নেবে সেটাও আমরা জানতাম। এ বিষয়ে আমাদের মতামত চাইলো। আমরা মতামত দিয়েছে। কিন্তু সদস্য হওয়ার চেষ্টা করিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, চাইলে (ব্রিকসের সদস্য পদ) পাবো না, বিষয়টি তেমন নয়। ব্রিকসের সদস্য হলে বাংলাদেশ খুশি হতো। তবে সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ কাউকে বলেনি। আমরা কাউকে বলিনি, আমাদের সদস্য করো। সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। আমরা সেই নিয়ম মেনে চলি।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের অপজিশন থেকে বলছে পাইনি (ব্রিকসের সদস্য পদ)। বাংলাদেশ কিছু চাইলে পাবে না সেটা নয়। বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বে এখন এমনই। বিএনপির আমলে দেশ ছিল হাত পেতে চলার, ভিক্ষা নিয়ে চলার দেশ। বাংলাদেশ আর সেই পরিস্থিতিতে নেই। এটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেছেন। তিনি ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে দেশে ফেরেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। বিশেষ করে, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের বাণিজ্যিক নানা পথ প্রশস্ত হয়েছে।
ড.ইউনুস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আত্মবিশ্বাস থাকলে ড. ইউনূস বিবৃতি ভিক্ষা করতেন না।
আত্মবিশ্বাস থাকলে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করতেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ভদ্রলোকের যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকতো আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাহলে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। এছাড়া আমাদের সব কিছু আইন অনুযায়ী চলে। কেউ যদি ট্যাক্স না দেয়। আর যদি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। আর লেবার কোর্টে মামলা হয়, আমাদের কী সেই হাত আছে মামলা বন্ধ করে দেব?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মামলাটি চলমান (সাব জুডিস)। আমাদের দেশে আমরা চলমান মামলা নিয়ে আলোচনাও করি না। কারণ এটা সাব জুডিস। যেখানে যেটি নিজের দেশে সাব জুডিস হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে বাইরের থেকে বিবৃতে এনে মামলা প্রত্যাহার করতে বলা হয়। আমি কে মামলা প্রত্যাহার করার? আমার কী অধিকার আছে? আমার সেই ক্ষমতা আছে? জুডিশিয়াল তো স্বাধীন। আমরা তো হস্তক্ষেপ করতে পারি না।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা বিবৃতি দিয়ে তার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) বিচার স্থগিত করতে বলেছেন তাদের বলছি বিবৃতি না দিয়ে আইনজীবী পাঠাক, এক্সপার্টরা দেখুক অনেক কিছু পাবেন। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সব কিছুই আইন মতো চলে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দুর্নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান করতে বলেছেন, কিন্তু দুর্নীতিবাজ পছন্দের লোক হলে আবার এগুলো নিয়ে কথা আসছে। কেন? আইন তো তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
তিনি বলেন, বিবৃতি না দিয়ে তাদের ক্লায়েন্টের জন্য অভিজ্ঞ লোক পাঠাক। তারা কাগপত্র ঘেঁটে দেখুক, এটা আসলে কী? মামলা তো আমরা করিনি। এনবিআর থেকে আয়কর ফাঁকির মামলা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লেবাররা মামলা করেছেন।
নোবেলজয়ী বলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? এমন প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে এমন বহু নোবেল বিজয়ী আছেন, পরবর্তী তাদের কাজের জন্য কারাগারে আছেন (যেতে হয়েছে)।
বিবৃতির ফলে আদালত প্রভাবিত হবে কিনা, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কিনা?, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারবে না কেন? আদালত স্বাধীনভাবে চলেব। ভয় পেলে চলবে না। শ্রমিকদের পাওনা তাদের দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন যদি জিজ্ঞেস করি, গ্রামীণ ব্যাংক কিন্তু সরকারি (নিয়মে চলে)। তাহলে সরকারি বেতনভুক্ত একজন কীভাবে বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন? কীভাবে তিনি এগুলো করেন?
সিন্ডিকেট সম্পর্কে তিনি আরও বলেন
দেশে সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে কত বড় শক্তিশালী আমি দেখবো।
সিন্ডিকেট নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না এটা কোনো কথা নয়। কে কত বড় শক্তিশালী আমি দেখবো। সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না এমন কিছু বাণিজ্যমন্ত্রী বললে তাকে আমি ধরবো।
উৎপাদন বাড়িয়ে এবং বিকল্প ব্যবস্থা করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন
‘নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণটা কার? ভোট চোরদের, ভোট ডাকাতদের, খুনি, জাতির পিতার হত্যাকারী, ২১ আগস্টের হামলাকারীদের? এদের মানুষ চায়? এদের প্রতি তো মানুষের ঘৃণা আছে। ২০০৮ সালে প্রমাণ হয়েছে। আমার কাছে অংশগ্রহণ বলতে, জনগণের অংশগ্রহণ। সেটা থাকবে। জনগণ ইতিমধ্যে সব নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যখন গেলাম, যার সঙ্গে দেখা হয়েছে। বলে, কী করে বাংলাদেশ এত উন্নতি করলো? আর দেশের এরা এটা বলে না। তারা পরশ্রীকাতরতায় ভোগে। আমি ওটা নিয়ে চিন্তা করি না। যতক্ষণ আছি, দেশের জন্য কাজ করে যাবো।


