ঢাকাSaturday , 26 July 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁপাইয়ে প্রত্যাশীরা মাঠে, বিএনপিতে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ চরমে

Link Copied!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করছে। জেলা থেকে উপজেলা, এমনকি তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জেলা আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের মধ্যে রয়েছে তীব্র মতবিরোধ থাকায় চার বছরেও শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি।তারা দুজনে জেলার সকল উপজেলায় একাধিক কমিটি দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।

এদিকে বসে নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপির তিন সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম। এই তিন নেতা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাই ইতিমধ্যে গনসংযোগ উঠান বৈঠক ও তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসউদা আফরোজ হক সূচি এবং ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হক মাসুদও মাঠে সক্রিয়। তারা এলাকায় গণসংযোগসহ উঠান বৈঠক করছেন এবং তৃণমূলে দলীয় সংগঠনকে পুনরায় চাঙা করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ‑১ শিবগঞ্জ আসনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আলহাজ বেলালী বাকি ইদ্রিসী প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূলে দলের ভিত্তি আরও মজবুত করতে নিয়মিত মতবিনিময় সভা ও প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর গোলাম জাকারিয়াকে আহ্বায়ক ও রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। পরের বছর ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বাদ পড়েন শাহজাহান মিঞা, হারুনুর রশিদ ও আমিনুল ইসলামের অনুসারীরা। এতে শুরু হয় দলীয় বিভাজন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও কমিটি নিয়ে বিরোধে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান জেলা আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম। একপক্ষ অন্য পক্ষের স্বাক্ষর ছাড়াই কয়েকটি উপজেলা ও পৌর কমিটি ঘোষণা করে। যদিও এসব কমিটি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের মৌখিক নির্দেশে গঠিত হয়েছে বলা হয়, তবে বৈধতা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এমতাবস্থায় সাংগঠনিক ঐক্যের বদলে হয়েছে বলয়ভিত্তিক বিভাজন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে হারুনুর রশিদের অনুসারীদের জায়গা না দেওয়ায় দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে সাবেক এম পি হারুনুর রশিদ এখনও জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতা।তৃণমূল পর্যায়ের বেশির ভাগ কর্মী সমর্থকগন তাকে প্রার্থী ধরে মাঠে কাজ করছেন।

নাচোল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম মজিদুল হক ও আলিনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুত বলেন তারা জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক সুচি কে সামনে রেখে ধানের শীষের জন্য ভোট চাচ্ছেন ও দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিএনপি নেতা খিজির হায়াত বলেন ইন্জিনিয়ার এমদাদুল হক মাসুদ একজন প্রতিভাবান সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ায় তারা তাকে সামনে রেখে ধানের শীষের জন্য ভোট চাচ্ছেন ও দলকে সংগঠিত করতে নিরালস ভাবে কাজ করছেন।

এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল তিন নেতার যৌথ স্বাক্ষরে কমিটি গঠনের। কিন্তু আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া তার স্বাক্ষর ছাড়া পাঁচটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন, যা বিশৃঙ্খলার বড় কারণ। অন্যদিকে আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া দাবি করেন, তার স্বাক্ষর ছাড়া কমিটিগুলো বৈধ নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমেটির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন কমিটি কমিটি খেলায় জেলার তিনটি আসনে দল দুর্বল হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা শাখা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জহিরুল ইসলাম বিশ্বাস বুলু ও রহনপুর পৌরসভা শাখা বিএনপির আহবায়ক এনায়েত করিম তোকি বলেন দলের দুঃসময়ে জেলার আহবায়ক হিসেবে গোলাম জাকারিয়া ও সদস্য সচিব হিসেবে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করেছেন। যেসব সমস্যা সামনে এসেছে তা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহবান জানান।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন