ঢাকাTuesday , 18 October 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী চাই: প্রধানমন্ত্রী

বাসস
October 18, 2022 7:43 pm
Link Copied!

বিশ্বকে শিশুদের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের প্রত্যাশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী চাই। আমরা যুদ্ধ চাই না, ধ্বংসযজ্ঞ, অস্ত্র ব্যবসা, কোনো শিশুকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করুক এবং কাউকে গুলি করে হত্যা করা হোক-এটা আমরা চাইনা।’

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘শেখ রাসেল পদক-২০২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে শিশুরা এতিম হচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে। তাই আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা চাই প্রত্যেকের ভবিষ্যত সুন্দর হোক, উন্নত হোক। শিশুদের ওপর বর্বরতা চলে, রাসেলের মত শিশুকে যেন জীবন দিতে হয়-এ সমাজ আমরা চাই না।’

তিনি বলেন, ’৭৫-এর পর দেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে হাজারো অফিসার-সৈনিক হত্যা করা হয়েছে। স্বজনরা তাদের লাশও পাননি। কারণ লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী নির্যাতিত হয়েছে, কারাভোগ করেছে, মৃত্যুবরণ করেছে। কাজেই আর আমরা স্বজন হারানোদের কান্না শুনতে চাই না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেকের ভবিষ্যৎ সুন্দর হোক, উন্নত হোক। আজ আমরা পাঁচ হাজার কম্পিউটার ল্যাব এবং ৩০০ টি স্কুল অফ ফিউচার উদ্বোধন করলাম। এর আগে আরো আট হাজার করেছিলাম, প্রায় ১৩ হাজার ডিজিটাল ল্যাব করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দেওয়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা-এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। শিশুদের যে মেধা সে মেধা বিকাশের যেন সুযোগ হয়, শিক্ষা-দীক্ষায় তারা উন্নত হবে, প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে, প্রযুক্তি শিক্ষা নেবে, বিজ্ঞান শিক্ষা নেবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে-সেটাই আমরা চাই।

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। আজকের শিশুরাই এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। মানবাধিকার যেন লঙ্ঘন না হয়, কোন শিশু যেন নির্যাতিত না হয়। প্রত্যেকেই যেন সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সম্পাদিত ‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর লেখা ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের ট্রেলারও প্রদর্শিত হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহ ও শিশু বক্তা আফসা জাফর সৃজিতা।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিজয়ীদের মধ্যে ‘শেখ রাসেল পদক-২০২২’ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে শিশুদের পরিবেশনয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছর থেকে শেখ রাসেলের জন্মদিনটি ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিরাপরাধ নারী ও শিশু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়, কেউ খুনীদের বিচার করতে পারবে না। আজকে আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকারের কথা, মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদ-কত কিছুইতো হয়। সেখানে আমার একটা প্রশ্ন- তখন কেউতো আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ঘাতকদের সঙ্গে ছিল কিছু লোক। তারাই ঘাতকদের পুরস্কৃত করেছে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছে। এমনকি যে ঘাতক মরে গেছে তাকেও প্রমোশন দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এই অবিচারগুলোতো আমি এসে (দেশে ফিরে) দেখেছি। তাহলে আমরা মানবতার, মানবাধিকারের এত গালভরা কথা শুনি কেন? আমার প্রশ্নের জবাব কি কেউ দিতে পারবে?

সরকার প্রধান বলেন, ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছে সেনা শাসক জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ বা খালেদা জিয়া-প্রত্যেকেই খুনীদের মদদ দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে। এমনকি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনী পাশা এবং হুদাকে নিয়ে ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি (প্রগশ)’ নামে রাজনৈতিক দল করেছিল। জেনারেল এরশাদ খুনী ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছে। আর খালেদা জিয়া রশিদ এবং হুদাকে জনগণের ভোট চুরি করে ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে নির্বাচিত করে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসায়। আর আজকে তারা ভোটের কথা বলে।

নিউজটি শেয়ার করুন