কলেজের সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সামনে গান পরিবেশন করতে হাজির হলেন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি তার চশমা খুলে পাঞ্জাবির কলারে রেখে অসংলগ্ন কণ্ঠে টেনে টেনে বলতে শুরু করলেন, ‘দ্বিতীয়বার কুড়িগ্রাম আসলাম। আগে একবার এসেছিলাম… তোমাদের সঙ্গে দেখা হয়নি। এবার দেখা হলো, আলহামদুলিল্লাহ।’ একটু পর আবার বলে উঠলেন, ‘এই আমার চশমাটা কই?’…এরপর মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ডকে সামনে এনে বারবার আছড়াতে দেখা যায় তাকে। এক পর্যায়ে সেটিকে ভেঙেই ফেলেন।
গত বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অনুষ্ঠানে ঘটা এ দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের এমন ‘অসংলগ্ন আচরণ’ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে জুতা ও পানির বোতল ছুড়ে প্রতিবাদ জানান উপস্থিত দর্শকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, র্যাফেল ড্র এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে নোবেলের গান গাওয়ার কথা থাকলেও তিনি মঞ্চে ওঠেন ১১টা ২০ মিনিটে। এ সময় তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখা যায়। একটু পরে চশমা পেয়ে চোখে পরে নিয়ে গান গাইতে শুরু করেন নোবেল। বেসুরো গলায় গান গাওয়ার ফাঁকে তিনি মাঝেমধ্যেই দর্শকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘সব ফ্ল্যাশ লাইট জ্বলবে।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পর্যায়ে নোবেলকে মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড আছড়ে ভাঙতেও দেখা যায়। এরপর তিনি মঞ্চেই দুপা তুলে প্যারেড করার মতো লাথি মেরে পরনের প্যান্ট দুহাত দিয়ে ঠিক করে নিয়ে অস্পষ্ট উচ্চারণেই গান ধরেন, ‘কারার ওই লৌহ কপাট…’। এক পর্যায়ে দর্শকরা ক্ষেপে গিয়ে জুতা ও পানির বোতল ছুড়ে মারেন নোবেলের দিকে। পরে নোবেলকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
এমন দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। তবে এ নিয়ে নোবেল কিংবা ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


