ঢাকাSunday , 3 September 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ীর সংখ্যা কম,নেই গণপরিবহন

খান শান্ত
September 3, 2023 11:17 pm
Link Copied!

• ১১ ঘণ্টায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা আয়
• বিমানবন্দর থেকে বেশি গাড়ী ফার্মেগেইট অংশে পারাপার
• আমার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে : প্রথম নারী চালক দাবি করা অর্থি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বাধাহীন যাত্রায় উড়াল সড়ক দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬ টা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বিমান বন্দর থেকে ফার্মগেটের দুই প্রান্ত দিয়ে গাড়ি ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে যাওয়া আসা করছে। অনেকেই প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উঠার জন্য সকাল থেকেই র‌্যাম্প গুলোর সামনে অপেক্ষায় ছিল।

এক্সপ্রেসওয়েতে সিএনজি ও মোটরসাইকেল না চলাচল করায় ব্যাক্তিগত গাড়ি শুধু চলতে দেখা যায়। কোন গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। সকালের দিকে কয়েকটি অফিসের ষ্টাফ বাস চলতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ীর সংখ্যা অনেকটাই কমছিল। যার ফলে সড়কে নিত্নদিনের যানজট আগের মতোই ছিল।

সরেজমিন বিমান বন্দর ও ফার্মগেটের দুই প্রান্তে গেলে দেখা যায়, প্রথম দিকে গাড়ির সংখ্যা দুইদিকে তেমনটা ছিল না। বেশিরভাগ গাড়ীর যাত্রীরা অনেকটা শখে ভ্রমণ করতে এসেছে। বিজয় সরনী থেকে বিমান বন্দরের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উড়াল সড়ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ যাত্রীকে আনন্দ উচ্ছাসে পারি দিতে দেখা যায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। তবে ফার্মগেইট এর বেলা বাড়ার সাথে সাথে চিরচেনা যানজট দেখা যায়। সকাল ৮ টা থেকে মগবাজার, তেঁজগাও, বিজয় সরণী, মহাখালী, বনানী এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়।

জানা যায়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রে ওঠার স্থান হবে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা; প্রগতি সরণি এবং বিমানবন্দর সড়কের আর্মি গলফ ক্লাব এবং নামার স্থান হবে বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ; মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে; ফার্মগেট প্রান্তে ইন্দিরা রোডের পাশে।

দক্ষিণ থেকে উত্তর অভিমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রে ওঠার স্থান হবে বিজয় সরণি ওভারপাসের উত্তর এবং দক্ষিণ লেন; বনানী রেলস্টেশনের সামনে এবং নামার স্থান হবে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে; বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের সামনে বিমানবন্দর সড়ক; কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের সামনে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুই এবং তিন চাকার যানবাহন ও পথচারী চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ। এর ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। নতুন এই উড়ালপথের মূল সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এবং ওঠানামার র‍্যাম্পের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। নির্ধারিত টোল পরিশোধ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামা করা যাবে।
একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা মো: মনিরুজ্জামান বলেন, আমি বিজয় সরণী থেকে বিমান বন্দরের দিকে যাচ্ছিলাম। গতকাল (শনিবার) রাত থেকে চিন্তা ছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বিমান বন্দর যাবো। তাই বিজয় সরণীর দিকে আসলাম। তবে কোম্পানি যাওয়ার জন্য আমাকে ৮০ টাকা দিবে না। আমার নিজের টাকা দিয়ে টোলের টাকা দিয়ে এখন যাচ্ছি। খুব ভালেঅ লাগছে এক্সপ্রেওয়ের চালক হয়ে।
ভোর ৬ টা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েরে দিয়ে যাওয়ার জন্য বিজয় সরণীর প্রান্তে হাজির হোন মো: আদনান নামের আরেক চালক। তিনি বলেন, তেজগাও থেকে উওরায় আগে সকালের দিকে আসতেও অনেক যানজটের পরতে হতো। সকালের দিকে মহাখালী বাস স্টেশনের দিকে বাহিরের বাসের গাড়ীর জটলার জন্য যানজটে বসে থাকতে হতো। কিন্তু এখন বিজয় সরনী থেকে বিমানবন্দরে ১১ মিনিটে চলে যাওয়া যাবে। এগুলো অনেকটা স্বপ্নের মতোই লাগড়ছে বলে জানান এই চালক।

আতকিয়া মায়মুনা অর্থি নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম নারী চালক দাবি করে বলেন, প্রায় ১১ কিলোমিটার ১১ মিনিটে পারি দিয়ে খুব ভালো লাগলো। ভোর ৬টা থেকেই আমি বিজয় সরণীর র‌্যাম্পের সামনে ছিলাম। আমার আগে কোন নারী চালককে আমি দেখিনি। যেখানে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতো হতো সেখানে বিজয় সরণী দিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় ১১ মিনিটের মধ্যে যেতে পারলাম। আমার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অনেকেই মাঝ পথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আমরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিচ্ছি। এখন গাড়ি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মাত্র আজই (গতকাল) খোলা হয়েছে। এখন দুটি র‍্যাম্প বন্ধ আছে। সেগুলো সামনে খুলে দেওয়া হবে। আর সকাল ৬ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ১০ হাজার ৮৫৪ গাড়ী যাওয়া আসা করেছে। বিমানবন্দর থেকে বেশি গাড়ী ফার্মেগেইট অংশে যাতায়াত করেছে। এই ১১ ঘণ্টায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা আয় হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন