ডিএমপির নতুন কমিশনার হচ্ছেন চৌকস কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ফাইল সই করেছেন। আজকালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সুত্র এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে আগামী ১ অক্টোবর চাকরি জীবনের ইতি টানছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বর্তমান কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। গত বছর ২৩ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
জানা যায়, অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান ট্যুরিস্ট পুলিশের আগে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর), ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বেদে সম্প্রদায় ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নিয়ে কাজ করে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তার রয়েছে সুখ্যাতি। ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া হাবিবুর রহমান ১৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। এক সময় ছাত্র জীবনে বাংলার বানী পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি একজন মিডিয়া বান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পেছনে ভূমিকা পালন করেন এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাভারে বেদে পল্লীর সমাজ ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করেছেন। সেখানে স্কুল, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বুটিক হাউসসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ও বাল্য বিবাহ রোধে ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি হিজড়াদের সামাজিক বৃত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। হিজড়া ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘উত্তরণ কর্ম-সংস্থান প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি চালু করেন এবং উত্তরণ ফাউন্ডেশন নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে এর মাধ্যমে তাদের সাবলম্বী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের আসরে ‘এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট’ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অবদান ও ঢাকায় তাদের প্রথম প্রতিরোধ বিষয়ক ঘটনা নিয়ে তিনি “মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ” নামে একটি বই লিখেছেন। বেদেদের হারিয়ে যেতে বসা ভাষাকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘ আট বছরের গবেষনার পর তিনি ‘ঠার’ নামক একটি বই রচনা করেন।
প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)” লাভ করেন। এছাড়া “রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)” লাভ করেন। এছাড়াও প্রশংসনীয় ও ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে আইজিপি’স ব্যাজ প্রদান করা হয়। তিনি সর্ব মোট তিনবার পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)। দুই বার পান প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা। সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পুলিশ সপ্তাহে পদক দেওয়া হয় যা বিপিএম এবং পিপিএম নামে পরিচিত। প্রথমটি বাংলাদেশ পুলিশ পদক এবং পরেরটি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক। হাবিব বেদেদের বিপন্ন ভাষার সংরক্ষণের উপর ‘ঠার’ নামক একটি বই লিখেছেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০২৩ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক লাভ করেন। বেদে সম্প্রদায়ের বিলুপ্ত ভাষা ঠার বইটির জন্য তিনি মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান এবং মেলাকা গভর্নর এর পক্ষ থেকে জোজো ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ডিএমপির কমিশনার কে হবেন তা অবসান হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। অধিবেশন শেষ করে তিনি লন্ডন যাবেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে দেশে ফিরবেন না। আর এ কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপির কমিশনার নিয়োগে সম্মতি জ্ঞাপন করে ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।


