:: কাজী পারভেজ ::
ক্ষমতা দখল করে নিজেদের মনগড়া ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করাই মূলত উগ্রপন্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর মূল লক্ষ্য। আর এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তারা কওমি মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক, হেফাজতে ইসলাম এবং সমমনা সংগঠনগুলোর উগ্রবাদী নেতা কর্মীদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ এক ভয়ানক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একটি গাঢ় অন্ধকারের আসন্ন আগমনের আশঙ্কায় নাগরিক সমাজ শঙ্কিত। সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে দেশান্তরী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সামাজিক সন্ত্রাসের চরিত্র বদলে গেছে। আগে যা রাজনৈতিক বা বৈষয়িক কারণে হতো, এখন তা রূপ নিয়েছে ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে হত্যার উন্মাদনায়। হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মান্ধ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ইত্যাদি) যে সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা সবার মনে আছে।
পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ (যা আগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি নামে পরিচিত ছিল) গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম জোরদার করছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সাথে আদর্শিক মিল থাকা এই সংগঠনটি সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী হলেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো চরম ধর্মান্ধতার শিকার। আর এই ধর্মান্ধতাকে পুঁজি করেই উগ্রবাদীরা সমাজে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।
ইতিহাস সাক্ষী, মধ্যযুগে ইউরোপে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান ও প্রগতি থমকে গিয়েছিল, যাকে ‘অন্ধকারের যুগ’ বলা হয়। ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ে আফগানিস্তানে তালেবানি শাসন এর জীবন্ত উদাহরণ। বাংলাদেশকে কোনোভাবেই সেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
এই মধ্যযুগীয় উগ্রবাদী রাজনীতি রুখতে হলে প্রথমেই শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক এবং একমুখী। রাষ্ট্রে ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনতে হবে।


