ঢাকাSunday , 10 November 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারিয়ে যাচ্ছে এসি বাড়ি !

Link Copied!

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ‘এসি বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। রুচিবোধের পরিবর্তন, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার কারণে মানুষ এখন আর মাটির ঘরে থাকতে চায় না। বর্তমান বিত্তশালী প্রজন্ম বাপ-দাদার ঐতিহ্য বহনকারী মাটির ঘর ভেঙে লোহা-সিমেন্টের বিলাসবহুল বাড়ি বানাচ্ছে। আর যাদের অর্থবিত্ত একটু কম, তারা টিনের চালা আর বেড়া দিয়ে বানাচ্ছে ঝকঝকে ঘরবাড়ি। অথচ পাকা ভবন কিংবা টিনের

ঘরের তুলনায় মাটির ঘর বেশি আরামদায়ক। শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই এসব ঘরে নিশ্চিত থাকে আরামদায়ক বাসস্থান।
কারণ প্রচণ্ড গরমেও ঘরের ভেতর থাকে তুলনামূলক শীতল। আবার তীব্র শীতে মাটির ঘরের ভেতরটা বেশ উষ্ণ থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, আগের দিনে মানুষ মাটির ঘর বানাতে আগ্রহী ছিল বেশি। কারন মাটির সহজলভ্যতা, হাতের কাছে প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়া ও শ্রমিক খরচ কম ছিল।

এ জন্য সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাটির ঘরের দেখা মিলত। একসময় উপজেলার প্রতিটি বাড়িতেই ছিল মাটির ঘর। এবং বাড়ির প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরই ছিল মাটির। কিন্তু সেখানে এখন মাটির ঘরের দেখা মেলাই ভার। ক্রমেই তা স্মৃতির পাতায় উঠে যাচ্ছে।

প্রবীণ ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আরশেদ আলী বলেন, উপজেলার খুটিগাছা,শোলাপাড়া,কাউরাইল,ভাদাশ, সোনাপাতিল, ওয়াশিন, কাঁস্তা, আড়ংগাইল, পৌষার, বারুহাস, দিঘরিয়া, চৌড়া,তালম, দেশিগ্রাম, দেওঘর, আশানবাড়ী, কোহিত, মাগুড়া, সোগুনা, বিনোদপুর, গুলটা, মানিকচাপর, কুসুম্বি,বিনসাড়া, মালশিন, আংগাড়পারা, বলভা, শুভার, ধানকুনটি, মাদারজানী, সরাপপুড়,জাহাঙ্গীরগাঁতী, বোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ছিল মাটির ঘর। বর্তমানে ওইসব গ্রামে হাতে গোনা কিছু বাড়িতে মাটির ঘর থাকলেও অধিকাংশ বাড়িতে দালান ও সেমি-পাকা টিনের ঘর।

তিনি আরও বলেন উপজেলার যেসব জায়গায় লাল মাটি ও এঁটেল মাটি পাওয়া যেত সেসব এলাকার লোকজনই বাড়িতে মাটির ঘর বানাত। এক সময় মাটির ঘর তৈরি করতেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ধানকুনটি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল, জলিল ও ছাত্তার তারা বলেন , লাল মাটি ও এঁটেল মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে জাউন করা হতো।

পরে সেই মাটি দিয়ে তৈরি করা হতো ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া দেয়াল। প্রতিবার ১-২ ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করে ৫-৬ দিন রোদে শুকানো হতো। পর্যায়ক্রমে ১০-১২ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করা হতো। পরে দেয়ালের ওপর টিন বা ছন দিয়ে চালা (ছাউনি) দেওয়া হতো। তারা আরও বলেন , প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে সময় লাগত ৩-৪ মাস। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঘরের ভেতরের দেয়ালে ধানের তুষ (কুঁড়া) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হতো ।

বাইরের দিকে দেওয়া হতো চুনের প্রলেপ বা আলকাতরা। চুনের প্রলেপ দিলে ঘরের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি ঝড়বৃষ্টি থেকেও রক্ষা পেত। বন্যা বা ভূমিকম্প না হলে এসব ঘর শতবছর টিকে থাকত। মাটির ঘর নির্মাণের কারিগরদের বলা হতো ‘দেয়ালি’।ওই গ্রামের আস্তাহার নামে এক দেয়ালি বলেন , মাটির ঘড় তৈরি করার উপযুক্ত সময় কার্তিক মাস। কারণ এ সময় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। প্রতি হাত ১২০ থেকে ২৫০ টাকা চুক্তিতেও ঘর নির্মাণ করতেন।

মানুষ এখন আর মাটির ঘর তৈরি করে না, যার জন্য এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাড়াশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম সানোয়ার হোসেন বলেন, আগে উপজেলার প্রতি বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল।
বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা খুবই কম। লাল মাটি ও এঁটেল মাটির অভাব, কারিগর সংকটে মানুষ এখন আর মাটির ঘর তৈরি করতে চায় না।

এ ছাড়া গ্রামের লোকজন এখন নানা কারণে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। তাদের রুচিবোধেরও পরিবর্তন হচ্ছে। আবার প্রবাসীরা দেশে এসে পরিবারের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের কথা ভেবে মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা ভবনসহ বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন