:: মো. তামিম সরদার, পিরোজপুর ::
আগামী ১৭ অক্টোবর ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিনে পিরোজপুরে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সালমা রহমান হ্যাপি। আজ বেলা ১১ টায় পিরোজপুর জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটর্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের কাছে সালমা রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ. কে. এম. এ. আউয়াল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ. হাকিম হাওলাদার, পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান মো.আলাউদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার মন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদউল্লাহ লিটন, সাধারণ সম্পাদ আমিরুল ইসলাম মিরণ সহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে দলীয় সমর্থন না পেলেও চেয়ারম্যান পদে এবারও প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকে পরাজিত করে মহিউদ্দিন মহারাজ বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল্লাহ আল মাসুদ, নেছারাবাদ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মোসা. হাসিনা মনি, সহিদুজ্জামান সিকদার এবং মো. আমির হোসেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে (পুরুষ) ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত (নারী) সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান খলিফা।
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সালমা রহমান হ্যাপি বলেন, ‘আমার পুরো পরিবার ও আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বড় ভাই তৎকালিন পিরোজপুর মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদ ওমর ফারুক শহীদ হন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান করেছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আমি জেলা পরিষদের সব সদস্যের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সুসম উন্নয়ন করতে চাই। ’
এদিকে পিরোজপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, এবারও করব। বিগত নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত সদস্যরা বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে মানুষ জেলা পরিষদের উন্নয়ন সম্পর্কে কিছুই জানত না। বিগত সময়ে আমার কাজে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জল হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে জেলা পরিষদের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। এবং আমি আশাবাদী এবারের নির্বাচনেও আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।
পিরোজপুর জেলার ৫৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, দুই পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ৭ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ভোটার ৭৪৭ জন।


