ঢাকাThursday , 14 November 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিলুপ্তির পথে ছনের তৈরি কুঁড়ে ঘর

Link Copied!

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খড়- কুটো ছনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা ঘর এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এক সময়ে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে বসবাসের প্রধান ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো কুঁড়ে ঘর। গ্রামের সাধারণ নিম্ন শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চ শ্রেণির মানুষেরাও ব্যবহার করতেন খড়-কুটো বা ছনের তৈরী ঘর গুলো। এক সময় গ্রামে সাধারণত কুঁড়ে ঘরের তুলনায় টিনের কিংবা ইটের ঘর তেমন খুঁজেয় পাওয়া যাচ্ছিলো না।

খুবই কম ছিলো, কিন্তু আজ তা কালের আবর্তনে সম্পূর্ণ বিপরীত। গ্রামের অত্যান্ অঞ্চলেও কুঁড়ে ঘর এখন চোখে পড়ে খুবই কম। শ্রমজীবী মানুষেরা ধান কাটার পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে নিপুন হস্তে তৈরি করতো এই কুঁড়ে ঘর। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য। মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

আর তাই হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালিদের চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী এই চিহ্নটি। হয়তো সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, খড়ের ছাউনির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম রূপ কথার গল্পে এই ঘরকে স্থান দিতে স্বাছন্দবোধ করবে।

আধুনিক সভ্যতায় মানুষ এখন পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। কুঁড়ে ঘর হিসেবে ব্যবহার করছে টিনকে। তাড়াশে এখন আগের মতো খড়-কুটো ছনের কুঁড়ে ঘর দেখা যাচ্ছে না। ফলে গ্রাম থেকে ছনের ছাউনি কুঁড়ে ঘর ব্যবহার ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।

দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা অমল চন্দ্র (৮৫) তার সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামে খড়-কুটো ছনের কুঁড়ে ঘর তৈরির জন্য কিছু কারিগর ছিলেন। তাদের দৈনিক মজুরি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। প্রথমে পুরাতন খড়-কুটো ছনের তুর হতো। ঘরের নতুন নতুন বাশ লাগানো হতো পুরাতন বওয়াল। তারপর নতুন খড়-কুটো ছন উপরে তোলা হতো।

এরপর আগার পাতলা অংশ কেটে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপে ছাউনি বাঁধা হতো। তৈরি করা সেই খড়-কুটো ছনের কুঁড়ে ঘরে বসবাস করা খুবই আরামদায়ক। ছনের ঘর গ্রীষ্মকালে ঠাণ্ডা ও শীতকালে গরম থাকে। ছনের ঘর তৈরি করার ঘরামি বা মিস্ত্রীর খুব কদর ছিলো বলে জানায়।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ধানকুনটি গ্রমের সাইদুর রহমান বলেন, এক সময় সর্বস্তরের থাকার জায়গার উৎসস্থল ছিলো খড়-কুটো কুঁড়ে ঘর। সময়ের পরিবর্তনে দালান কোঠার আড়ালে এখন নিঃস্ব খড়- কুটো কুঁড়ে ঘর।

ঐতিহ্যের অংশকে আকঁড়ে ধরে রাখতে সকলের এগিয়ে আসতে হবে। খড় কুঠার ঘরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সকলর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তা না হলে একদিন কালের বিবর্তনে খড়-কুটো, ছনের ঘরগুলো জাদুঘরে ঠাঁই নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন