:: খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল বাগেরহাট ::
সুন্দরবনে নিষিদ্ধ বেন্দি জাল ও বিষ দিয়ে মাছ স্বীকারের অভিযোগ উঠেছে। এধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র অন্যদিকে ছোট ছোট মাছ মরে গিয়ে ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। বনবিভাগ বলছে, এধরনের অপতৎপরতা রুখতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১ ইঞ্চি ফাঁকা জাল দিয়ে সুন্দরবনের আশপাশের ছোটবড় খালে মাছ আহরণের কথা, সেখানে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ছোট ছোট ফাঁকার জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছে জেলে পরিচয়দানকারী দুর্বৃত্তরা। এতে দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের উরুবুনিয়া খালে বিষ দিয়ে মারা মাছ ভাসার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। গত মঙ্গলবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে এ তদন্ত কমিটি দুপুর থেকেই বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জেলে জানান, সরকারি পাশ নিয়ে আমরা সুন্দরবন অঞ্চলে মাছ ধরতে যাই। সেখান থেকে মাছ আহরণ করে নিয়ে আসি, তবে কখনো কখনো বনবিভাগের অসাধু ব্যাক্তিদের নিষিদ্ধ কাজটি করতে নগদ টাকা দিতে হয়। আবার কখনো মাছও দিতে হয়। এছাড়া কিছু কর্মকর্তা বা কর্মচারীর গালমন্দও শুনতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানাই।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, অল্প কিছুদিন আগে আমি এখানে এসেছি, তবে বিষ ও নিষিদ্ধ বেন্দি জাল দিয়ে মাছ শিকার যাতে না হয়, সে ব্যাপারে বনবিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দুর্বৃত্তদের সহযোগীতায় যদি বনবিভাগের কোন সদস্যও জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে চলছি আমরা। এছাড়া বিষ নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগীতা চেয়েছি। তাছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান বিষ বিক্রি করছে তাদেরকেও সহযোগীতার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় বনবিভাগ সব সময়ে সচেষ্ট রয়েছে।
জানা গেছে, জেলেরা সরকারি পাশ নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চলে এক ইঞ্চির কম ছোট ফাঁসের চর জাল দিয়ে মাছ ধরে। অন্যান্য স্টেশনে নৌকা ও জাল চেক দিলেও চাদপাই, জিয়ধারা ও ধানসাগর স্টেশনে মোটেও চেক দেননা স্টেশন কর্মকর্তরা। যার কারণে সুযোগ বুঝে জেলারা বিষ ও চর জাল দিয়ে মাছ ও পোনা নিধন করে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দবনে বেন্দি জাল নিষিদ্ধ, কেউ কেউ চুরি করে নিয়ে যায়। আমাদের লোকজন চেক করে পেলে তা নষ্ট করে দেয়। বিষ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।


