কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে লক্ষীপুর জেলার একটি ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সানাউল্লাহ ও মো. আবদুর রহিম নামে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মুক্তির বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার জানাজানি হওয়ায় কারাগারসহ সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় চলছে।
একই মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরও দুই আসামি মো. হারুন ও আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি আদালতে বন্দি আছে। তাদের মুক্তির বিষয়ে উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের ৮ সপ্তাহ স্থিতাবস্থা বহাল থাকলেও কুমিল্লা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে দণ্ডাদেশ ও মুক্তির আদেশ দেয়া লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।
এদিকে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই ওই দুই আসামি সানাউল্লাহ ও আবদুর রহিম আত্মগোপনে চলে যান। তারা হলেন- লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মনা বেপারীর ছেলে সানাউল্লাহ ও নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার আন্ডারচর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে মো. আবদুর রহিম।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সানাউল্লাহ, আবদুর রহিম, মো. হারুন, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ লক্ষ্মীপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই চার আসামির ফাঁসির আদেশ হয়।
সকল আইনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের রায় কার্যকরের জন্য সানাউল্লাহ (কয়েদি নং-৮৫৯০) এবং আবদুর রহিমকে (কয়েদি নং- ৮৫৯১) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। আর বাকি দুই আসামি মো. হারুন (কয়েদি নং- ৮৫৯২) ও আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝিকে (কয়েদি নং- ৮৫৯৩) গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়। এরই মাঝে জেল আপিলে আসামিপক্ষ খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এতে আদালত চার আসামিকে খালাস দেয়।
এতে তাদের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেলাল আহমেদও উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এতে আদালত ওই আসামিদের মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। সূত্র জানায়, এ আদেশের কপি উচ্চ আদালত থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও দণ্ডাদেশ দেয়া লক্ষ্মীপুরের ওই আদালতেও প্রেরণ করা হয়। এদিকে লক্ষ্মীপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন
ট্রাইব্যুনালের বিচারক চলতি বছরের গত ৬ নভেম্বর আদালতের স্মারক নং- ৫১১১ মূলে আসামিদের খালাসের আদেশ দেন। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ আদেশের ৬ দিন পর গত ১২ নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তির ব্যাপারে আদালতের চূড়ান্ত খালাস আদেশটি পান। ওইদিন কারাগারের ডেপুটি জেলার তৌহিদুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের সংশ্লিষ্ট কোর্টের ব্যাঞ্চ সহকারী জহুরুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে আসামিদের মুক্তির আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এমতাবস্থায় উচ্চ আদালতের ৮ সপ্তাহের স্থিতাবস্থা চলমান থাকা অবস্থায় ওইদিনই (১২ নভেম্বর) উক্ত দুই আসামি সানাউল্লাহ ও আবদুর রহিমকে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি পেয়েই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার তাদের মুক্তির বিষয়টি জানাজানি হলে কারাগারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়। কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর গত ১৪ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের একই আদালতের স্মারক নং- ৫২৪৭ (৬)(৪) মূলে অবমুক্ত হওয়া আসামি সানাউল্লাহ ও আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। অপরদিকে একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কারাগারে থাকা দুই আসামি মো. হারুন ও আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম মাঝির উচ্চ আদালতে স্থিতাবস্থার কারণে মুক্তি মিলেনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর আদালতের ব্যাঞ্চ সহকারী জহুরুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ কেটে দেন।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আব্দুল্লাহিল আল-আমিন সাংবাদিকদের বলেন, লক্ষ্মীপুরের আদালতের নির্দেশে তাদেরকে অবমুক্ত করা হয়েছে। তারা ওই আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিতাদেশের বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না।
একই কারাগারের নবাগত জেল সুপার হালিমা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।


