চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছর প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ছাচি ও কন্দ পেঁয়াজের আবাদ করছেন কৃষকরা।কৃষকদের দাবি আবহাওয়া ও উন্নত মানের ছাচি ও কন্দ পেঁয়াজের বীজ পাওয়াই ফলন ভালো হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
তাদেও আশা বাজারে ছাচি ও কন্দ পেঁয়াজ আসলে বাজারে আসলে ওরা ওরা ভালো দাম পাবে।
জানা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আগাম জাতের শীতকালীন কন্দ ও ছাচি পেঁয়াজ চাষ করে সফল এ জেলার কৃষকেরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলতি বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন কন্দ ও ছাচি জাতের পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে।
কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসা ও নায্য দাম পেলে ভাল লাভের আশা তাদের। এ জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা লাভবান। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম সাশ্রয় হবে। এ ব্যাপারে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন কৃষি বিভাগ।
মাঠ জুড়ে শীতকালীন কোন্দ জাতের পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। এ যেন সবুজের সমারোহ। গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর মাঠ কে মাঠ শীতকালীন কন্দ ও ছাচি আগাম জাতের পেঁয়াজ লাগিয়েছেন কৃষকরা। অক্টোবর মাসের ১ম সপ্তাহের দিকে এ জাতের পেঁয়াজ রোপন করেন ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে এ পেঁয়াজ বাজার উঠতে শুরু করবে।
কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আগাম জাতের পেঁয়াজের বীজ লাগানো আছে। সমানে ডিসেম্বরে জমি থেকে পেঁয়াজ উঠানো হবে। আমার মতো অনেক কৃষকই প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম পেতে পারে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যন্ত। তবে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা পেঁয়াজের দাম পেলেও আমরা যারা পেঁয়াজ চাষ করছি তাও লাভ থাকবে। আমাদের এ মাঠে শুধুই পেঁয়াজ চাষবাদ হয়ে থাকে। এখন সবাই কৃষক পেঁয়াজের পেছনে সময় ব্যয় করছে ভালো ফলনের আশায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক আবুল কাসেম জানান, আমি ৬ বিঘা আগাম জাতের পেঁয়াজ লাগিয়েছি। প্রতি বিঘা পেঁয়াজ ১ লাখ ২০ হাজার খরচ হলেও প্রতি বিঘা জমিতে ৯০ থেকে ১০০ মণ পেয়াজ পাওয়া যায়। খরচ বাদে বিঘা প্রতি দিয়ে ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভ হবে। এ বছর আমার সবগুলো জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজ খুব ভালো হয়েছে।
কৃষক সেতাউর রহমান জানান, তারা লাভের আশায় লাগালেও তেমন একটা লাভ করতে পারেন না। কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন পেঁয়াজ বাজারে আসার সময় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এতে করে দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায়। তাদের দাবি আগাম জাতের পেঁয়াজ উঠানোর সময় যাতে কোন ধরনের ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করা না হয়। ফলে তারা লোকসানের মধ্যে পড়ে। এ জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা যাতে কোন রকম লোকসানে না পড়ে সেদিকে নজর রাখার পাশাপাশি নায্য দাম নির্ধারণ করে দিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কৃষকরা জানান, শীতকালীন কন্দ ও ছাচি জাতের পেঁয়াজে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রেসহ নিড়ানীর কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া স্প্রে করা হচ্ছে যাতে কোন ধরনের পোকা মাকড় না লাগে। চলতি বছর গত বছরের তুলনায় এবছর দ্বিগুন টাকা দিয়ে পেঁয়াজের বীজ ক্রয় করা হয়েছে।তাদের দাবি কৃষি বিভাগ থেকে প্রকৃত কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ দেবার ও দাবি করেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, আগাম জাতের শীতকালীন কন্দ ও ছাচি জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম কম হবে। জেলায় চলতি বছরে শীতকালীন আগাম জাতের কন্দ ও ছাচি পেঁয়াজ চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।


