রাজশাহীতে শুরু হয়েছে মৃদুশৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন। বিশেষ করে রাজশাহীতে ঘনকুয়াশা শীতের তীব্রতা আর এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে রাজশাহী চলতি শীত মওসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমে গেছে। দুই মিলে হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হচ্ছে প্রাণীকুল। বিশেষ করে ঘুনকুয়াশায় রাজশাহীতে চলতি রবি মৌসুমের ফসলের ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ্যপর্যাবেক্ষক রহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল ৯ টায় রাজশাহীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি শীত মওসুমের এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ১১দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও গত বুধবার ছিল ১৩দশমিক ০ ও মঙ্গলবার ছিল ১৪দশমিক ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এবার শীতে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির লোকজন সকালে কাজে যেতে না পেরে পরিবার নিয়ে বেকায়দায় পড়ছেন। শীতের কারণে নগরীর রিকশা চালকরাও সকালে রিকশা নিয়ে বাইরে বের হতে পারছেন। সকাল ও রাতে নগরী ফাঁকা থাকছে নগরী। বিশেষ করে শীতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা কঁনকঁনে ঠান্ডায় মাঠে-ঘাটে কাজে যেতে পারছেন না। কারণ একদিকে শীত অন্য দিকে কুয়াশা, তার উপর হিমেল হাওয়া। তিন
মিলে মাঠে-ঘাটে টেকা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
শীত জেঁকে বসায় রাজশাহীর হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বেশি। এখন পর্যন্ত শীতার্ত ছিন্নমুল মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের পক্ষে এখনো শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। প্রতিবছর জেলা প্রশাসন থেকে দরিদ্র জনগোষ্টির মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও এবার শুরু হয়নি। তবে এ মাসের শেষের দিক থেকে সরকারীবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হবে এমনটা জানিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
এদিকে শীত বাড়ায় বেড়েছে গরম কাপড়ের দোকানে ভীড়। লোকজন শীত নিবারণ করতে যে যার সাধ্যমত গরম কাপড় কিনছেন। এতে নগরীর অভিজাত শপিংমল থেকে ফুটপাত, সব দোকানেই লোকজনের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নগরীর আরডিএ মার্কেট, নিউমার্কেট, সাহেববাজার, উপশহর নিউমার্কেটসহ বিভিন্নস্থানে ভাষ্যমান দোকান বা ফুটপাতের কাপড়ের দোকানে ক্রেতা সমাগম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেশি লোকজন কেনাকাটা করছেন। কারণ বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ ক্রেতারা ভীড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। নিজেদের সাধ্যমত নিজের ও পরিবারের লোকজনদের জন্য কিনছেন পোষাক।
নগরীর গণকপাড়া মোড়ে শীতের পোষাক কিনতে আসা রিকশা চালক আমজাদ হোসেন জানান, রিকশা চালিয়ে পরিবারই চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এরমধ্যে শীত। শীত তো নিবারণ করতে হবে, তাই পরিবারের জন্য শীতের পোষাক কিনতে এসেছি। তিনি বলেন, এবার ফুটপাতেও গরম কাপড়ের দাম একটু বেশি। তারপরও সাধ্যমত ছেলে মেয়ের জন্য শীতের পোষাক কিনেছি। জুবাইদা নামে এক নারী জানান, আমরা সাধারণ পরিবারের লোকজন। আমাদের ঠিকানা ফুটপাত। ফুটপাত থেকে গরম কাপড় কিনে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, ঘনকুয়াশার কারণে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের আক্রমণসহ নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এভাবে বেশিদিন ঘনকুয়াশা থাকলে রবি ফসলের কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


