:: সৌরভ অধিকারী শুভ শেরপুর ::
বাবা-মা জন্ম না দিলে এ পৃথিবীতে আমরা কখনোই আসতে পারতাম না। আর সঠিক ভাবে লালন পালন না করলে কোনদিনই মানুষের মত মানুষ হতে পারতাম না। উচ্চ শিক্ষিত হতে পারতাম না। এমনকি ব্যবসায়ী চাকরিজীবী ও হতে পারতাম না। সন্তানকে কোলে পিঠে করে মানুষ করা এসব মানুষের চোখে মুখে এখন ক্লান্তির ছাপ আর বয়সের ভাজ। সময়ের বেড়াজালে বন্দি এসকল মানুষ এখন শুধু পরপারের অপেক্ষায়। সন্তানকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে তৈরী করতে তারা হারভাঙ্গা পরিশ্রম করেছেন। সন্তানের কল্যানের জন্য দিন-রাত পরিকল্পনা করে গেছেন। অথচ সেই বাব-মা এখন সন্তানদের কাছে ঝড়ে পড়া ফুল। সন্তানদের ঘরে এখন স্থান না হওয়ায় বৃদ্ধাশ্রমকেই আপন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিত্ত বৈভরের মালিক হওয়া স্বত্তেও এই বাবা-মার থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানদের এমন ব্যবহারে বুক ফেটে যায় তাদের তার পরেও সন্তানদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ না করে দোয়া করে যাচ্ছেন তাদের ভাল থাকার জন্য। বুকের মধ্যে হাহাকার কিন্তু বোঝার বা বোঝাবার কেউ নেই তাদের পাশে। প্রতিনিয়ত তারা প্রহর গুনছেন, এই বুঝি তাদের সন্তানেরা বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। পরিবর্তিত সমাজে কমে যাচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ। একাকিত্ব করে দিচ্ছে মানুষকে। তাইতো বাবা-মায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কোন বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, আজ আমার বাবা-মাকে সম্মান না করে যেখানে রেখে (বৃদ্ধাশ্রম) আসছি। কাল হয়তো আমাকেও সেখানে থাকতে হতে পারে।
ছেলে-মেয়েদের অবহেলায় নিঃস্বঙ্গ জীবন কাটানো এমন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত সোনাভান বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ২১ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পুনর্বাসন হয়েছে এখানে। এখানে মনোরম পরিবেশে ঘোরাফেরা করছেন তারা। রয়েছে নামাজের ব্যবস্থা। চিত্ত বিনোদনের জন্য বিশাল একটি ঘরে টিভি দেখার ব্যবস্থাও করেছেন কর্তৃপক্ষ।
এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, আমার ছেলেকে দেড় বিঘা জমি লিখে দেইনি বলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার আর কোন খোজ খবর নেয়না। তাই এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছি। তবে এখন আমি খুব ভাল আছি। এই বৃদ্ধাশ্রমে আমার দেখভাল করার জন্য অনেকেই আছে। এখন এটাই আমার পরিবার।
এ ব্যাপারে সোনাভান বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রোজেক্ট ম্যানেজার ডা. বিজন কুমার পাল বলেন, এখানে ৮ জন পুরুষ ও ১৩ জন মহিলা রয়েছেন। তারা এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা, বস্ত্র ও খাবার পাচ্ছেন। তাদের দিনে ৩ বার ভাল মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও ২ বার চা বিস্কুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনায় আছে ধীরে ধীরে এই প্রতিষ্ঠানকে আরো বড় করার।


