ঢাকাTuesday , 11 March 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

Link Copied!

পাঁচদফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) আন্দোলনরত ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের সঙ্গে এবার একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরাও। কর্মবিরতির কারণে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ পুরো নগরীর সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকদের এই কর্মবিরতির ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগি ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যান। আবার অনেকেই উপায় না পেয়ে তাদর রোগিদের বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে রামেক হাসপাতালে পুরোটাই চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। বর্হিবিভাগেও রোগিদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। আর রামেক হাসপাতালে নতুন রোগি ভর্তি হলে তারা কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছেন না।
এছাড়াও এ আন্দোলনের কারণে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগি ও অভিভাবকরা।
রামেক হাসপাতালে বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড এবং বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না।
রোগিরা অভিযোগ করেন, সকাল থেকে ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসক আসেননি। অনেক রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার কেউ নেই। নার্সদের কাছে গেলে তারা বলছেন, তাদের কিছু করার নেই। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগিরা।

লক্ষ্মীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোগিরা চিকিৎসকের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন, কিন্তু কোথাও চিকিৎসক বসেননি। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিচ্ছিলেন, গতকাল মঙ্গলবার কোনো ডাক্তার বসবেন না, হটলাইনে ফোন করে পরে আসবেন।’ হতাশ রোগী ও স্বজনরা তখন তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আজ দুপুরে মেহেরপুর থেকে রাজশাহীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা কিডনি রোগী আনোয়ারা খাতুনের ছেলে আবদুল আলিম বলেন, ‘১ হাজার ৬০০ টাকা মাইক্রোবাস ভাড়া দিয়ে এসেছি, এসে শুনছি ডাক্তার বসবেন না। এখন ফিরেও যেতে পারছি না।’
চুয়াডাঙ্গা থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত মেয়ে তানিয়াকে নিয়ে আসা হাসিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয়েছি, ট্রেনে এসে পৌঁছেছি দুপুরে। এখন এসে শুনি ডাক্তার বসবে না। এটা আগেই জানালে অন্তত আসতাম না।’ একই অবস্থা গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও।

গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টার ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, ‘সকালে আমরা রোগীদের সিরিয়াল নিয়েছিলাম, কিন্তু চিকিৎসকরা না বসায় এখন রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’ চিকিৎসকদের পাঁচদফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো- এমবিবিএস ও বিডিএস ব্যতীত কেউ যেন নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখতে না পারেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দেওয়া হয়। এই দাবির পক্ষে তারা আন্দোলন করে আসছেন, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই কর্মবিরতির ফলে রাজশাহীর চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আর রোগিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দফায় দফায় আল্টিমেটাম দিয়েও দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। সিনিয়র চিকিৎসকরা আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চলবে।’

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু জরুরি বিভাগ ও নতুন ভর্তি রোগিদের সেবা দেয়া হচ্ছে। আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা নির্ভর করছে হাইকোর্টের আসন্ন রায়ের ওপর।’

চিকিৎসকরা কাল বুধবার হাইকোর্টে ঘোষণা হতে যাওয়া একটি রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন