চাঁপাইনবাবগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন মাঠের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কাঁচা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়ায় মিলছে না শ্রমিক। মাঠেই পচে যাচ্ছে কৃষকের ধান এবং গজাচ্ছে চারা।কৃষকগন হাঁটুপানিতে নেমে ধান কেটে ঘরে তুলছেন। ক্ষতির মুখে কৃষক।
্কৃষি বিভাগ জানান চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে ২৫৮ মিলি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৬ মে পাঁচ উপজেলায় গড়ে ১৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হেয়ছে। টানা বৃষ্টিতে ১৯৪ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৩ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করেছিল কৃষকরা। তবে ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
জেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের কাকমারির বিল, গোমস্তাপুর উপজেলার শিমলতলা মাঠ, বিল দামুস, গোঙ্গলপুর, রাঙামাটিসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু কেটে রাখা ধান জমির আইলে রাখা হয়েছে। আবার কিছু ধান হাঙা (স্তূপ) করে রাখা আছে। অনেকে রাস্তার পাশে উঁচু স্থানে ধান স্তূপ করে রেখেছেন মাড়াইয়ের জন্য। স্তূপ করা ধানে চারা গজিয়ে গেছে।
গোমস্তাপুর এলাকার কৃষক ইব্রাহিম আলীর স্ত্রী রহিমা খাতুন জানান, ‘৫ বিঘা জমির কেটে রাখা ধান মাঠে পড়ে আছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব ধান ভিজে গেছে। বেশির ভাগ নিচু এলাকায় একেবারে ধান নষ্ট হয়ে গেছে । শ্রমিকরা খরাতে কাটলেও এখন তাঁরা আসতে চাচ্ছেন না। আবার এলেও ডাবল পারিশ্রমিক চাচ্ছেন। বিল দামুস মাঠের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘খেতের পাশে স্তূপ করে রাখা অনেক ধান ভেসে গেছে। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পেয়ে নিজেই ধান কাটা শুরু করেছি।’
ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন রহমত আলী। তিনি বলেন, ‘ধান করতে এবার খরচ বেশি হয়েছে। আবার কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আমার সব ধান পানিতে ভাসছে। বর্তমানে শ্রমিক পাচ্ছি না ধান কাটার জন্য। ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।’
শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক আমজাদ আলী জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। তিন বিঘার জমির ধান সব জলে ভেসে গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন প্রায় ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। তাই কৃষকের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। তিনি আরও বলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কৃষকরা যেন স্তূপ করা ধান দ্রুত সময়ে খোলা জায়গায় শুকিয়ে মেড়ে নেন।


