ঢাকাSaturday , 5 July 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমে উঠেছে শতবর্ষী চাইয়ের হাট

Link Copied!

বর্ষা মানেই নদ-নদী, খাল-বিলে মাছের উৎসব। আর সেই মাছ ধরার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফাঁদ ‘চাই’।পিরোজপুরে বর্ষা এলেই এর কদর যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তাই বর্ষার শুরুতেই পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজারে জমে উঠেছে ‘চাইয়ের হাট’। শতবর্ষী এই হাট এখন শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয় বরং হয়ে উঠেছে জীবিকার বড় উৎস ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।

প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার জমজমাটভাবে বসে এ হাট। নদীপথ ও সড়কপথে সহজ যোগাযোগ থাকায় বাগেরহাট, চিতলমারী, স্বরূপকাঠি ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিক্রেতা ও ক্রেতারা ভিড় করেন এই হাটে। হাজার হাজার বাঁশের তৈরি মাছ ধরার চাই বিক্রি হয় খুচরা ও পাইকারি দরে।

এক সময় নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি হতো চাইয়ের দড়ি, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘কাতা’ বলা হতো। তবে এখন সে দড়ির ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত। কালের পরিক্রমায় জায়গা নিয়েছে রঙিন প্লাস্টিকের দড়ি। বাঁশ ও প্লাস্টিকের দড়ির সংমিশ্রণে তৈরি চাই এখন আরও টেকসই ও বহুল ব্যবহৃত।

চাইয়ের দাম নির্ধারিত হয় কুড়ি হিসেবে (এক কুড়ি কুড়ি = ২০টি)। বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে প্রতি কুড়ি চাই ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মান ও আকারভেদে দামের তারতম্য হয়।

চাই তৈরি হয় মূলত বর্ষাকালকেন্দ্রিক। বছরের বাকি সময় অন্য পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্ষায় পরিবারসহ অনেকেই এ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিলে তৈরি করেন মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী ফাঁদ। বর্ষা তাদের কাছে শুধু প্রকৃতির অনুগ্রহ নয়, আয়-রোজগারের প্রধান সময়ও বটে।

স্থানীয় কারিগররা জানান, এক সময় এই হাট ছিল শুধু স্থানীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর এলাকায়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। চাইয়ের হাট এখন শুধুই হাট নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি মৌসুমি শিল্প ও ঐতিহ্যবাহী অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি পিরোজপুরের শ্রীরামকাঠীর এই হাট তাই শুধুই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, জীবনধারা ও সংগ্রামী জীবনের একটি প্রাণন্ত গল্প। বর্ষা এলেই এই গল্পের পাতা উল্টে যায় আরও একটি রঙিন অধ্যায়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন