যশোরের ভবদহ অঞ্চলে টানা বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং মাছের ঘের ভেসে গিয়ে মৎস্য খাতে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রবল পানির চাপে ভেঙে পড়েছে ঘেরের পাড়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল ও বসতবাড়িও।
গত ৫ জুলাই থেকে একনাগাড়ে ভারি বর্ষণের ফলে ভবদহ অঞ্চলের ৫২টি বিল প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকেছে আশপাশের গ্রাম ও জনপদে।
যশোরের বিমানঘাঁটির আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে যেখানে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৯৯ মিলিমিটার, সেখানে জুলাই মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত দাঁড়িয়েছে ৫১৪ মিলিমিটারে।
উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতায় ১২৯ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এছাড়া পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের ২৮৪টি মাছের ঘের (প্রায় ২২৫ হেক্টর) ভেসে গেছে।
স্থানীয় মাছচাষি কৃপাচার্য্য ধর বলেন, “ভবিষ্যতের ক্ষতির কথা চিন্তা করে আগেই নেট কিনে রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পানির তোড়ে আমার ঘেরের পাড় ভেঙে সব কিছু তলিয়ে গেছে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুজাতপুর, আমডাঙ্গা, সুন্দলীসহ বিভিন্ন গ্রামের বহু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। স্কুলের মাঠে পানি জমে আছে, পাঠদান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনেক মসজিদ-মন্দিরেও পানি ঢুকেছে।
অভয়নগরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, টানা বৃষ্টিতে ২৮৪টি ঘের ভেসে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, অনুমোদন পেলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। ভবদহের পানিবন্দি পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাল-বিলে অবৈধ নেট-পাটা সরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অথচ ভবদহের ২১-ভেন্ট সুইচগেটর মধ্যে মাত্র ছয়টি গেট খোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “সব গেট খুললে পানি দ্রুত নামত। পাশাপাশি টিআরএম প্রকল্প না চালু করলে ভবদহের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর অফিস সূত্রে জানা যায়, আগস্ট মাসে ভবদহ-সংলগ্ন ছয়টি নদী প্রায় ৮১ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দুই-এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “যদি দ্রুত আমডাঙ্গা খালের সংস্কারকাজ শুরু না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি সুইচ গেটগুলো একযোগে খুলে দিলে পানি দ্রুত বেরিয়ে যাবে।”


