ঢাকাWednesday , 6 August 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুহুরী নদীর ভাঙা বাঁধ দেখতে মাঠে দুদক

Link Copied!

বন্যা পরবর্তী নদীভাঙন ও বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এই অভিযান।

দুদকের ফেনী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ডিডি) আবদুল্লাহ আল নোমান ও সহকারী পরিচালক জাহেদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম এ অভিযানে অংশ নেন। প্রথমে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র, বরাদ্দ, বিল ও প্রকৌশল নকশা পর্যালোচনা করেন কর্মকর্তারা।

পরবর্তীতে তারা সরেজমিন পরিদর্শনে যান ফুলগাজী উপজেলার শ্রীচন্দ্রপুর, উত্তর বরইয়া ও উত্তর দৌলতপুর এলাকায়। এ সময় মুহুরী নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধসমূহ ঘুরে দেখেন। ভূক্তভোগী ও স্থানীয় সংবাদকর্মী জহিরুল ইসলাম রাজু দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং বিগত বছরগুলোতে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কীভাবে অনিয়ম হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর একই স্থানে একই প্রকল্পের নামে বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে টেন্ডার ও কাজ বণ্টনের নামে চলছে লুটপাট।

পরে বেলা আড়াইটার দিকে পরশুরাম উপজেলার নদী তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোও পরিদর্শন করেন দুদকের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাদেরকে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বিস্তীর্ণ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, ধানক্ষেত ও ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রতিবছরই বাঁধ মেরামতের নামে লাখ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, সরেজমিন তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে রিপোর্ট পেশ করা হবে। প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতে আবারও তদন্ত হবে এবং প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর বন্যায় মুহুরী নদীর অন্তত ১০টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এসব দুর্বল বাঁধের আগেই সংস্কার করার কথা থাকলেও তারা তা করেননি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই তাদের বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন