‘আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ জনগণের সমর্থন ধানের শীষ তথা বিএনপি পাবে। বিএনপির এই পাওয়া অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে।
আজ রোববার বিকেলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদেরকে দেশকে গড়তে হবে। স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা, বিচার, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলে আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’
দেশ গড়তে বিএনপিই প্রথম সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আড়াই বছর আগে স্বৈরাচার সরকারের আমলেই আমরা বাংলাদেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। সেই ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছিলাম। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এখন সংস্কারের জন্য যেসব আলোচনায় আসছে, অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি আড়াই বছর আগেই জাতির সামনে ঘোষণা করেছিল। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি এই দেশকে যদি এগিয়ে নিতে বেশ কিছু ব্যাপারে রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হবে। সেই জন্য অন্য কেউ চিন্তা করার আগে আমরা বিএনপি আড়াই বছর আগে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার সরকারের সময় এমনভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সাজিয়েছিল, যাতে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে গিয়ে মানুষ সেবা নিতে বাধ্য হয়। এই দেশে হাসপাতাল ধ্বংস করে ইচ্ছে করে রোগীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে দিত। তারা চিকিৎসার নামে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দিত। মেগা উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি তারা করেছে। আমাদের এখন নিজস্ব চিকিৎসক ও নার্স গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ এই দেশের হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার জনগণের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতা দখল করে ছিল। কীভাবে তারা গুম, খুন, হত্যা শুরু করেছিল তা আমরা দেখেছি। তারা বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে কীভাবে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল দেখেছি। এই সম্মেলনে যারা উপস্থিত তাদের অধিকাংশ মানুষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছেন। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির বাইরেও বহু রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে ছিল, ছোটবড় যেমন দল হোক না কেন, যারা মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সোচ্চার ছিল, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। গুম-খুন করেছে। আমরা রাজনীতি করেছি, কিন্তু পরিবারের যে সদস্য রাজনীতি করেনি- তাকেও হয়রানি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ সরকার কীভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেটি যে কোন নির্বাচনই হোক, প্রতিটি পর্যায়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙ্গেচুরে দেয়া হয়েছিল। বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। মেগা উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছিল। কীভাবে অর্থ সম্পদ লুট করে পাচার করা হয়েছে তা আমরা দেখেছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা। আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার সরকার পালিয়ে গেছে। এখন আমাদের জনগণের শাসন, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মূল উপায় হলো, জনগণের সরাসরি ভোট প্রয়োগের ব্যবস্থা করা। সেই ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে, কে আগামী দিনে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।’
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার সেই পথে এগোচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা কবরা হয়েছে- আগামী রমজানের আগে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের অধিকারের প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে। এখন ভোট হলেই হবে না, ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করলেই হবে না। জনগণ বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চায়, দেশের ভবিষ্যৎ কী। বিএনপি আগামীতে কি করবে? কেন মানুষ জানতে চায়? কারণ, বাংলাদেশের জনগণ, বিএনপির ওপরে আস্থা রাখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আজ ফারাক্কার কারণে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। সুজলা-সুফলা এলাকা পদ্মা নদীর পানির অভাবে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। পানির নায্য হিস্যা পেতে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। জাতিসংঘে যাব প্রয়োজন হলে। আমাদের পানির ব্যবস্থা করতে হবে। খালগুলো সংস্কার করতে হবে যেন তারা পানি নিয়ে আবার ঝামেলা করলেও যেন এখানে পানি থাকে।’
এর আগে সকাল থেকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান সংলগ্ন মাঠে মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।
বক্তব্য দেন- আরেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা।
সম্মেলন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মামুন-অর-রশিদ মামুন।


