ঢাকাMonday , 25 August 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়পুরহাটে স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই ভেঙে পড়ার উপক্রম

Link Copied!

জয়পুরহাট জেলার সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে গত ৮ মাস যাবত ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জনবল সঙ্কট ও নানা অনিয়মে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত ঔষধ সরবরাহ সহ সকল সমস্যা সমাধানের দাবি তাদের। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান হবে।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় মোট ১১৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২৫ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিদিনই হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন এসব কেন্দ্রগুলোতে। তবে বর্তমানে নানা সঙ্কটে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো। গত প্রায় ৮ মাস যাবত বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ঔষধ সরবরাহ।

এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার সহ ৬ জন জনবলের বিপরীতে রয়েছেন ৩ জন। অন্যদিকে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খেয়াল খুশি মতোই আসেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এতে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন জেলা, উপজেলার হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। অনেকেই টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না ঔষধ। তাই অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি তাদের।

সদর উপজেলার জামালপুর পুরাতন বাজারের আব্দুল হাকিম মন্ডল বলেন, ‘আমাদের এখানে কমিউনিটি ক্লিনিকে কোন ঔষধ পাওয়া যায় না। মানুষজন এসে এসে ঘুরে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার অফিস খোলে ১০ টায় আর বন্ধ করে ১ টার মধ্যেই। কোনদিন একটু দেরিতে যায়, আবার কোনদিন আসেনই না।’ ধারকী গ্রামের মাজেদুর রহমান বলেন, ‘প্রায়ই ঔষুধ নেওয়ার জন্য আসি কমিউনিটি ক্লিনিকে। কিন্তু ঔষধ পাইনা।

গত ৭/৮ মাস ধরে দেখছি এমন অবস্থা। এখানে যদি ঔষধ নাই পাওয়া যায়, তাহলে এই ক্লিনিক রেখে লাভ কি?’ কোমর গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন , ঔষুধ নেওয়ার জন্য গত কয়েকদিন থেকে ঘুরছি, কিন্তু পাচ্ছিনা। শুনছি আসবে, কিন্তু কবে আসবে তাও জানিনা। শহরে গেলে ২/১ শত টাকা খরচ হয়। এখানে যদি ঔষধ থাকতো তাহলে শহরে যেতে হতো না। এজন্য জরুরী ঔষধ সরবরাহ করা হোক।’ ক্ষেতলাল উপজেলার রামপুরা গ্রামের মারুফ বলেন, ‘আমাদের গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। কোন ঔষধ পাওয়া যায় না। কবে যে ঔষধ আসবে তা কেউ বলতে পারছেনা। আমাদের গরীব মানুষদের জন্য খুবই সমস্যা হয়ে গেছে।’
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সেলিনা পারভীন বলেন, গত ‘ডিসেম্বর মাসের পর থেকে আমরা ঔষধ সরবরাহ পাচ্ছিনা। এজন্য সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে পারছি না। তার পরও যেসব রোগীরা আসছে, তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে ব্যবস্থাপত্র বা সেবা দিচ্ছি। তবে শুনছি যে, দুই এক মাসের মধ্যে ঔষধ আসবে।’ জামালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার চন্দনা রানী বলেন, ‘গত ৭ মাস থেকে কোন ঔষধ পাইনি।

এজন্য রোগীরা আসে-আবার ঘুরে যায়। আমরা যদি ঔষধ না পাই তাহলে রোগীদের কিভাবে দিব?’ ক্ষেতলালের বড়তাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বেদেনা খাতুন বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের পর থেকে ঔষধ না থাকার কারণে রোগী অনেক কমে গেছে। প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ রোগী হতো। এখন শুধু কাউন্সিলিং করি, ফলে ২ থেকে আড়াইশো রোগী হয় মাসে। ঔষধ পাচ্ছেন না দেখে রোগীদেরও মন খারাপ। অনেক প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এরকম থাকলে

সেবার মান অনেক কমে যাবে। এজন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত ঔষধ সরবরাহের জন্য।’
জয়পুরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসের পর থেকে ঔষধ সরবরাহ নেই। এজন্য চিকিৎসা সেবায় কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। তবে পরিবার পরিকল্পনা সহ অন্যান্য সেবা আমরা দিচ্ছি। আশা করছি দ্রুত ঔষদের সরবরাহ পাবো। তাহলেই এসব সমস্যা কেটে যাবে।’

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো শুধুমাত্র শুক্রবার বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে। কেউ যদি সময় মতো না খোলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর গত ডিসেম্বরের পর থেকে ঔষধ সরবরাহ না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। তবে চাহিদা দিয়েছি, ঔষধ সরবরাহ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন