ঢাকাWednesday , 27 August 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলুতে তহবিল হারাচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

Link Copied!

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারি জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাটের আলু চাষি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এবার হিমাগারে আলু সংরক্ষন করে তাদের তহবিলই হারাতে বসেছেন।

এ বছর মৌসুমি আলু ব্যবসায়ী ও ক্ষুদে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও আলু সংরক্ষন করে নিজেদের মুলধন হারাচ্ছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হিমাগারের পক্ষ থেকে আলু সংরক্ষনকারী কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরছেন না এবং কোন রকম যোগাযোগ রাখছেন না। অথচ জেলার প্রায় সব কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষন করে রাখার মৌসুমে সিরিয়াল পেতে কৃষক- ব্যবসায়ীদের অনেক গলদঘর্ম হতে হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা হিমাগার কর্তৃপক্ষের সাথে বিশেষ যোগাযোগ ও তদবিরে সহজেই আলু রাখতে পারলেও কৃষকরা আলু রাখতে দিনের পর দিন আলু নিয়ে ধর্না দিতে হয়েছিল জেলার বিভিন্ন হিমাগারের গেটে। অবশেষে কোন কোন হিমাগারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগনের হস্তক্ষেপে কৃষকরা আলু সংরক্ষন করতে পেরেছিলেন।

সরেজমিন জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শিমুলতলী আরবি ¯েপশালাইজড স্টোরেজে ৫০ বস্তা আলু রেখেছেন উপজেলার হাতিয়র গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম। দাম কম থাকায় এখনো বিক্রি করেননি তিনি। এসব আলু মৌসুমেই বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। চার মাস পরও ৬৫ কেজির এক বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬২০ থেকে ৬৩০ টাকায়।
এ দামে আলু বিক্রি করলে ৫০ বস্তায় ৫০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমন ধান রোপণের খরচ যোগাতেই তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন।

 

শুধু তিনিই না, বিপদে আছেন তার মতো কয়েকশত কৃষক। কৃষকের মতো ব্যবসায়ী এবং হিমাগার মালিকরাও উদ্বেগে দিন পার করছেন। তারা বলছেন, প্রতিদিন আলুর দাম কমছে। ফলে তারা তহবিলই হারাচ্ছেন। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলু কিনে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বেচাকেনাও অনেক ধীর গতিতে চলছে। ফলে হিমাগারের মজুত তেমন কমছে না।

গত বছর এমন সময়ে মজুতের অর্ধেক বিক্রি হলেও এবার ৮ শতাংশেরও কম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক হিমাগার কর্তৃপক্ষ। আর কৃষক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম কমছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষক ভাড়াও দিতে পারবেন না। দাম কম জেনে তারা এ বছর আলু বিক্রি করতেও হিমাগারে আসছেন না। মজুদ বেশি থাকায় এ বছর আলু না তোলার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হিমাগার মালিকরা।

পুনট বাজারের ব্যবসায়ী আক্কাস ফকির বলেন, আলুর দাম বেশি হলে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির লোক কমানোর চাপ দিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করেন। এবার দাম বাড়ানো নিয়ে এখন কারো মাথাব্যথা নেই।’ পুনট হিমাগারের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার বলেন, এবার ক্রয়-বিক্রয়ের চিত্র উল্টো। ব্যবসায়ীরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন। গত বছর এ সময়ে অর্ধেকেরও বেশি আলু হিমাগার থেকে বের হয়েছে। অথচ এবার বের হয়েছে ৭ থেকে ৮ শতাংশ। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব বের হবে কিনা, তা নিয়ে মালিকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। সংরক্ষনকারীদের আলু না তোলার আশংকায় আছেন হিমাগার মালিকরাও।

বেশ কয়েকজন হিমাগার ব্যবস্থাপক জানান, আলু কেনা থেকে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬৫ কেজির পরিবহন-শ্রমিক সহ প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে এক হাজার থেকে ১১শ টাকা পর্যন্ত। অথচ সংরক্ষণের চার মাস পর ৬২০ থেকে ৬৩০ টাকায় বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের লোকসান ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকা ।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, কৃষক ও কৃষি বাঁচাতে সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি দিবেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৪৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টন। জেলায় চাহিদা মাত্র ৫০ হাজার টন। আর ২১টি হিমাগারে দুই লাখ ছয় হাজার টন সংরক্ষণ হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই আশানুরূপ দাম পাননি কৃষক। গত বছর আলু রেখে সবাই বেশি লাভবান হয়েছেন। সে কারণে এবারো কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় অনেক বেশি আলু মজুদ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন