ঢাকাSunday , 30 October 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাগরের কোল ঘেঁষে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

Link Copied!

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালীতে সোনারচরসহ নয়নাভিরাম দ্বীপগুলো শীতের শুরুতে আরও সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে উঠেছে। এসব দ্বীপগুলোতে এখনই ঘুরে আসার সময়। যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। চোখ জুড়ানো আর দৃষ্টিনন্দন ওই সমুদ্র সৈকতগুলো হলো সোনারচর, জাহাজমারা, তুফানিয়া ও চরহেয়ার। সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়ার দল বেঁধে ছোটাছুটি, ঢেউয়ের গর্জন, সবুজ বনাঞ্চল ও গাছে গাছে পাখির কলকাকলি যেন স্বপ্নপুরীকেও হার মানায়।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনায় ঘেরা সৈকত চারটির ভৌগোলিক অবস্থান নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে। এখানে যেমন আছে পর্যটন সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে কিছু সমস্যাও। এখানকার পর্যটন সম্ভাবনায় প্রধান অন্তরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, হোটেল-মোটেল না থাকা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়া। তবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ঘিরে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে এ পর্যটন শিল্পে।

কুয়াকাটার চেয়ে ৩০ কিলোমিটার দূরের সৈকত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পটুয়াখালীর এ বিস্তৃত দ্বীপগুলো পর্যটনে এগিয়ে। কিন্তু যাতায়াতে সময় বেশি হওয়ায় পিছিয়ে রয়েছে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনা।

পর্যটনের সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত রাঙ্গাবালীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ মাধ্যম একমাত্র নৌপথ। তবুও অসংখ্য পর্যটক প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকাসহ উত্তর অঞ্চলের অনেক পর্যটকই এখানে আসেন না। কারণ হিসাবে পর্যটক আফসানুল হক, তোফায়েল আহমেদসহ আরও অনেকে বলছেন, নৌপথ নির্ভর রাঙ্গাবালীতে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে আসতে সময় লাগে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা।
আবার যেতেও একই সময় ব্যয় হয়। অতিরিক্ত সময়ের জন্য বিপাকে পড়তে হয় অনেক পর্যটককে। কিন্তু পদ্মা সেতুর কল্যাণে এখন সেই দুর্ভোগ সিংহভাগ লাঘব হচ্ছে। পদ্মা সেতুর সময়ও বেঁচে যাবে প্রায় ৭-১০ ঘণ্টা। শুধু মাঝখানে আগুনমুখা নামে একটি নদী পাড়ি দিতে হবে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। আসছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও।

অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে জেগে থাকা সোনারচরে সোনা নেই ঠিকই, তবে সূর্যের রশ্মি যখন সৈকতের ওপর পড়ে তখন দূর থেকে মনে হয় সত্যিই সোনার আবির্ভাব হয়েছে এখানে। মনে হবে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে স্বর্ণের।

সোনারচর চরমোন্তাজ ইউনিয়নে সাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত। বন বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সুন্দরবনের পরেই আয়তনের দিক থেকে এটি বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুবিশাল সমুদ্র সৈকত।

সৌন্দর্যের কমতি নেই জাহাজমারা দ্বীপেও। দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান মৌডুবি ইউনিয়নে। জাহাজমারার কাছেই আরও দুটি দ্বীপ রয়েছে। একটির নাম তুফানিয়া অন্যটির নাম চরহেয়ার। যেখানে আছে নিবিড় সবুজের সমারোহ।
সৈকতে অগণিত লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। আছে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বন বিভাগের ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। জেলে নৌকার বহর। তবে কোনোটিতেই নেই হোটেল-মোটেল। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সোনারচর, জাহাজমারা, তুফানিয়া ও চরহেয়ারে পন্টুন স্থাপন করা জরুরি।

একইসঙ্গে হোটেল-মোটেল ও রেস্ট হাউজসহ আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করলে পর্যটকদের এসব দ্বীপে আসার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, রাঙ্গাবালীর পর্যটন স্পটগুলো নিয়ে ট্যুরিস্ট জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পদ্মা সেতু হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আরও নিশ্চিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা সোনারচরসহ সংশ্লিষ্ট দ্বীপচরগুলোতে পর্যটন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন