তখন ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস, বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা থেকে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে বিহারী প্রশিক্ষণ দিয়ে মাগুরার শালিখার তালখড়ি গ্রামে অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আড়পাড়া ক্যাম্পের রাজাকার ও রেঞ্জাররা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে ঘটনা স্থলে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন এবং বাকিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-ওদিক পালিয়ে গিয়ে কোনরকম নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। এমনি নানা ঘটনার বর্ণনা করছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর।
এছাড়াও মাগুরার পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ থানার ষোলুয়া গ্রামে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করছিলাম হঠাৎ সংবাদ পেলাম খাজুরা রাজাকার ক্যাম্পের ওসি ইব্রাহিম এর হুকুমে রাজাকার কমান্ডার মাওলানা রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে গাজিরবাজার আক্রমণ করা হবে সংবাদটা শোনা মাত্রই আমাদের কাছে যা কিছু ছিল আমরা তাই নিয়ে শত্রুদের মোকাবেলা করি এবং তাদেরকে প্রতিহত করে গাজীবাজার এলাকার সাধারণ মানুষ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
তখন আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসু কমান্ডার নিজেদের জীবনে ঘটে যাওয়া এমনই নানা ঘটনার বিবৃতি দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল রঞ্জন সিকদার।
আজ রোববার সকাল ১১ টায় মাগুরা জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনায় নতুন প্রজন্মের শির্ক্ষাথীদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আড়পাড়া বালিকা বিদ্যালয় ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন মনিরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. কামাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাগুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস এম আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাগুরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, আব্দুল মান্নান, গোবিন্দ মজুমদার, নারায়ণ চন্দ্র, মনমোহন, মনমোথন বিশ্বাস, কেনায়েত হোসেন, আকবর হোসেন সহ ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনা আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত আড়পাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের নানা গল্প, মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের নানা বাস্তব কাহিনী অবশ্যই নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাথেয়।
যা তারা অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবে। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের গল্পের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


