:: প্রতিনিধি,পিরোজপুর ::
দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর আগামী রোববার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছে পিরোজপুর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। জেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে। সড়কগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সব মিলে যেনো এক উৎসব মূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে পিরোজপুরে।
দীর্ঘ দিন জেলা সম্মেলন না হলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উদ্দিপনা আর উচ্ছাসের ঘাটতি নেই সামান্যটুকুও। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিছিল করছে দলের নেতাকর্মীরা। চলছে যোগাযোগ। সভাস্থল পরিদর্শন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। নেতাকর্মীদের ভীরে সভাস্থল হয়ে উঠছে তাদের মিলন মেলার স্থল। এদিকে পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে জেলা সদর। এসবের মধ্যেও জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খুজে বেড়াচ্ছেন তাদের যোগ্য নেতাকে। অনেকেই চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম এ আউয়াল কে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হোক।

তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতে ২০০১ সালে পরে যে সব নেতাদের মাঠে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা গেছে তাদের মধ্য থেকেই আগামী সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হোক। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্যতম সভাপতি প্রার্থী এ কে এম এ আউয়াল। তিনি এর পূর্বের কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পিরোজপুরে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার অবদান অনেক। অনেক নেতাকর্মীরাই চাচ্ছেন তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করুক। দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা বলছেন এ কে এম এ আউয়াল ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে যোগ্য আর কেউ নেই। তিনিই সব সময় নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন।বিপদে আপদে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে সু সংঘঠিত রেখেছেন ।তাই ২৭ নভেম্বরের সম্মেলনে তাকে পুনরায় সভাপতি করে যোগ্য কাউকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হোক।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী জানান, দির্ঘদিন ধরে সেই ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি। সম্মেলনে মাঠে থেকে রাজনীতি করা নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হোক। যারা ওয়ান ইলেভেনের পূর্বে জামায়াত- শিবিরের হামলা মোকাবেলা করেছে তাদের দল মূল্যায়ন করবে।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কানাই লাল বিশ্বাস জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এর নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত ছিলো তাকে পুনরায় সভাপতি করা হোক। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করলে আগামী দিনে জেলা আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলন প্রস্তুুত কমিটির আহবায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক জানান, একটি সুন্দর সম্মেলনের অপেক্ষায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সম্মেলন পরবর্তি নেতাকর্মীরা এমন একটি কমিটি প্রত্যাশা করেছে যে কমিটির নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারবে। যারা মাঠে থেকে জামায়াত- শিবির বিএনপিকে প্রতিহত করেছে এমন নেতাকর্মীদের হাতে পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। হাইব্রিড নেতাদের হাতে নয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল জানান, পিরোজপুরের নেতাকর্মীরা সকলে সচেতন আমাদের সম্মেলনটি সুন্দর ও সুস্ঠ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন তারা দেখবেন দেখে তারা একটি সুন্দর কমিটি দেবেন পিরোজপুরে। যে কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য শান্তি চুক্তির প্রবর্তক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল।
উল্লেখ্য এর আগে ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. এম এ হাকিম হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।


