ঐতিহ্যের ধারায় সজ্জিত আমাদের জামদানি। বিশ্ব দরবারে স্ব মহিমায় সমুজ্জ্বল এক অভিজাত তাঁতবস্ত্র এ জামদানি। বাহারী রং, বুনন, কৌশল, নকশা ও জ্যামিতিক মোটিফের মধ্য দিয়ে বিশ^ বাজারে আজ সমাদৃত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামদানী। অপূর্ব নকশা, বাহারী রং আর সুক্ষ্ম বুননে জামদানি শাড়িতে রয়েছে ভিন্নতা। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে প্রতিটি শাড়িই যেন সেরা। সৌন্দর্যে একটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে গেছে। আভিজাত্য, ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সোনারগাঁয়ের জামদানির তুলনা আর কিছুর সঙ্গে হয় না বললেই চলে। সোনারগাঁয়ে বাহারী জামদানী শাড়ি আজ বিশ^ ঐতিহ্যের একটি অংশ।
বিশ্ব বিশ্রুত অন্যন্য মসলিন শাড়ির সংস্করণ অধুনা জামদানি শাড়ি। মূলত তা আমাদের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে সঞ্চারিত এক বিরল অনুপম নিদর্শন। তবে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশী ভারতসহ আরও দু’একটি দেশে জামদানির সূচনার প্রয়াস ‘পন্ডশ্রম ও অপপ্রয়াসই’ রূপ লাভ করেছে। এককালের ঢাকাই মসলিন বিলুপ্ত হলে পরবর্তীতে ঢাকা জামদানি হয়ে উঠে। আজ এ সোনারগাঁয়ের জামদানী শাড়ি বাহারী রংয়ের সংমিশ্রণে দেশী বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও স্থান নিয়েছে। ঢাকাই মসলিনের পরেই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি জামদানীর গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনস্বীকৃত। তাঁতীদের অসাম্য দক্ষতা এবং সুনিপুনতায় শত শত বছর ধরে তৈরি কারুকার্যময় সোনারগাঁয়ে জামদানির খ্যাতি বিশ্ব জোড়া।
বহু প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মসলিন এবং জামদানি সৌন্দর্য ও শিল্প-নৈপুণ্যে অনবদ্য। ৩০০ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন ভারতীয় মণিষী কৌটিল্য তার অর্থশাস্ত্র বইতে উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গ ও পুন্ড্রবর্ধন মানে উত্তরবঙ্গে একধরনের সুক্ষ্ম-বস্ত্র বয়ন করা হয়। গ্রিক ইতিহাসবিদ পেরিপ্লাস এর বইতে আছে বঙ্গ থেকে আরব, চীনা ও ইতালীয় বণিকরা চার ধরনের সুক্ষ্ম বস্ত্র ইউরোপে নিয়ে আসেন। এ সুক্ষ্ম-বস্ত্রগুলোর নাম ছিল ক্ষৌম, দুকুল, পত্ররনা এবং কার্পাস। এর মধ্যে দুদুলকে ইতিহাসবিদরা মসলিন ও জামদানির আদিরূপ বলে চিহ্নিত করেছেন। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে এ কাপড়ের জনপ্রিয়তা ছিল মূলত ধনী অভিজাতদের মধ্যে।
খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকেও বঙ্গ থেকে সোনারগাঁও বন্দরের মাধ্যমে মসলিনের মতো সুক্ষ্ম-বস্ত্র ইউরোপে রপ্তানি হতো। তবে মসলিন শব্দটির উৎপত্তি সম্ভবত ইরাকের মৌসুল শহর থেকে। আর জামদানি শব্দটি এসেছে পারস্য থেকে। বুটিদার জামা থেকে জামদানি শব্দটি পাঠান সুলতানদের আমলে বাংলায় সুপ্রচলিত হয়। নবম শতকে আরব ভূগোলবিদ সুলাইমান বাংলাদেশের মসলিন ও জামদানির উল্লেখ করেছেন তার গ্রন্থে। প্রখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৪শ শতকে লেখা তার ভ্রমণ বৃত্তান্তে সোনারগাঁয়ের বস্ত্রশিল্পের প্রশংসা করতে গিয়ে মসলিন ও জামদানির কথা বলেছেন। মোগল আমলে মসলিন ও জামদানি শিল্পের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। সে সময় নানা রকম নকশা করা মসলিন ও জামদানি দিল্লি, লখনৌ ও মুর্শিদাবাদে চড়াদামে বিক্রি হতো। সম্রাট আকবরের নবরত্নের অন্যতম সদস্য ইতিহাসবিদ আবুল ফজল মসলিন ও জামদানির গুণকীর্তন করেছেন তার বইতে। ষোড়শ শতকে ইংরেজ পর্যটক রালফ ফিচ বঙ্গ থেকে দিল্লিতে লাখ লাখ টাকার মসলিন রপ্তানির কথা বলেছেন।
রাজধানী ঢাকার অনতিদূরে সোনারগাঁয়ে গড়ে উঠে জামদানি শিল্পীদের পল্লী। তাদের হাতে তৈরি প্রায় স্পর্শাতীত অদৃশ্য অবিশ্বাস্য সুন্দর মিহি সুতার শাড়ি যা আজ সারা দুনিয়ার বিষ্ময় ও মর্যাদার বস্তু। সোনারগাঁয়ে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেট ও পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যেও বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়।
জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে বারদী, আমগাঁও, গনকবাড়ি, বাইশচেঙ্গী, মুছারচর, বরাবো, চেঙ্গাইন, শেকেরহাট, বাসাবো, তিলাব, বস্তল, কলতাপাড়া, কাহেনা, মালিপাড়া, সাদিপুর, বাহ্মণবাওগাঁ, খেজুরতলা, কাজিপাড়া, তালতলা, চৌরাপাড়া, ওটমা, রাউৎগাঁও, নয়াপুর, উত্তর কাজিপাড়া, পেরাব, পাকুন্ডা, খালপাড় চেঙ্গাইন, ভারগাঁও, কান্ধাপাড়া, ফিরিপাড়া, আদমপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জামদানি শাড়ি তৈরি করেন জামদানি শিল্পী ও কারিগররা। এছাড়া সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ যাদুঘর) এর কারুপল্লীতে জামদানি শাড়ি তৈরির একটি বড় বাজার রয়েছে। এ কারুপল্লীতে স্বর্ণলতা, ময়ূরপঙ্খী, সোনারতরী, পদ্মরাগ, কুসুমকলি, পালকি, তরুলতা, রূপসীবাংলা, হিজলতলী নামে ৯টি জামদানির দোকানঘর রয়েছে। এ দোকানঘরগুলো শিল্পী ও কারিগররা তাদের নিপুন হাতে জামদানি তৈরি, প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন। এদিকে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসে দেশী বিদেশী পর্যটকরা সোনারগাঁয়ের জামদানি ক্রয় করে নিয়ে যান।
সরেজমিন সোনারগাঁ যাদুঘরের কারুপল্লীতে দেখা গেছে, প্রাণস্পন্দনের মতোই খটখট আওয়াজে মুখরিত থাকে জামদানি পল্লী। ঐতিহ্যের ধারায় সজ্জিত জামদানি শাড়ির নকশা দেখলেই মনে হতো কোনো বিখ্যাত শিল্পী তার ক্যানভাসে সরুতুলির টানে এঁকে দিয়েছেন এক বিশাল শিল্পকর্ম। শিল্পীরা নকশার ক্ষেত্রে আনেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তারা স্বীয় মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিটি শাড়ি বুনেন। জামদানি তাঁতিরা নিজের হাতে নৈপুণ্য দেখিয়ে জামদানি তৈরি করেন। জামদানি শাড়ির জমিনে তোলা ভিন্ন ভিন্ন নকশার রয়েছে সুন্দর সব নাম। এসব নকশার নামেই শাড়ির পরিচিতি। সবুজ জমিনে লাল সুতা আর সোনালী জরির সুক্ষ্ম কাজের জামদানি শাড়ির নাম ‘শাপলা ফুল’। দাম ৮-১০ হাজার টাকা। কালো জমিনে লাল, সাদা আর রূপালী কাজের জামদানির দাম ১২ হাজার টাকা, নাম ‘আঙ্গুরলতা’। এভাবে বিভিন্ন নামের জামদানি শাড়ি ২ হাজার, ৩ হাজার টাকা থেকে ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঘন কাজের কিছু শাড়ি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়ও বিক্রি হয়। তবে এসব শাড়ির ক্রেতা কম। সুতি, সিল্ক ও হাফ সিল্কের জামদানি শাড়ি তেরি করা হয়। এমনটাই জানালেন জামদানি শিল্পী ইব্রাহিম মিয়া। তিনি বলেন, এখানে রেডিম্যাটের পাশাপাশি অর্ডার দিয়েও জামদানি সরবরাহ করা হয়।
হিজলতলী জামদানি দোকানের মালিক ইকবাল হোসেন জানান, সোনারগাঁয়ের জামদানি শুধু যাদুঘরের দোকানগুলোই বিক্রি হয় না। এখানকার জামদানি দেশের নামীদামি মার্কেট যেমন ধানমন্ডি হর্কাস মাকের্ট, নিউ মার্কেট, সানরাইজ প্লাজা, বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি হয়। সোনারগাঁয়ের জামদানি ২ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা মুল্যের শাড়ি বিক্রি হয়।
সোনারগাঁয়ে কারুপল্লীর জামদানি শিল্পী আবু তাহের, মো. ওসমান গণি, আবুল কালামসহ কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, সুতা নকশা ও বুননের মুন্সিয়ানার ওপর নির্ভর করে জামদানির মূল্য। জামদানিতে ক্ষেত্র বিশেষ স্বর্ণ-রূপার জরির কাজ করা হয়ে থাকে। তাঁতি ও কারিগররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইঞ্চি পাইড়, প্লুতা পাইড়, দুবলা পাইড়, চালতা পাইড়, বেলপাতা পাইড়, দুবলা ডং আমিরতী পাইড়, কাডি পাইড় শামুক, তেসরি, জাদুর তেসরি, ঘোড়া, ময়ূরপুচ্ছ, সাগুদানা জাল, ঢেউজাল, লতাজাল, শংখবুটি, ঘুড্ডিবুটি, কলসী পাইড়, দাদুশাই ফুল, জুইফুল, কচু, গায়াফুল, সন্দেশ ফুলসহ অসংখ্য নকশার জামদানি বুনো। এছাড়াও তেরছা, জলপাড়, পান্না হাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলা ফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, বুটিদার, ঝালর, ময়ূরপাখা, পুইলতা, কল্কাপাড়, প্রজাপতি, জুঁইবুটি, হংসবলাকা, শবনম, ঝুমকা, জবাফুলসহ কত নামের যে জামদানি আছে তার কোন শেষ নেই।
সোনারগাঁয়ে লোক কারুশিল্প যাদুঘরে বেড়াতে আসা ঢাকার মুগদা এলাকার গৃহবধূ শিল্পী আক্তার জানান, সোনারগাঁয়ে আমরা বেড়াতে আসছি শুধু জামদানি বুনন দেখতে। সরাসরি বুনন দেখে জামদানি কেনা অনেক ভালো বলে আমরা মনে করি। তাই ৫টি জামদানি শাড়ির অর্ডার দিয়ে গেলাম।
সোনারগাঁ কারুপল্লী ও কারুশিল্পী দোকান মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জামদানি হাট বসে। প্রতি শুক্রবার ডেমরা বাওয়ানী হাইস্কুল মাঠে ও রূপগঞ্জ নোয়াপাড়া জামদানি বিসিক এলাকায়। ওই হাটে সোনারগাঁয়ের জামদানি শিল্পীরা অংশ নিয়ে জামদানি শাড়ি বিক্রি করে। এখানে দেশের বিভিন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে জামদানি শাড়ি ক্রয় করে নিয়ে যায়। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় মেলাগুলোতে সোনারগাঁয়ে কারুপল্লী জামদানি শিল্পীরা অংশ নিয়ে জামদানি শাড়ি বিক্রি করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি খরচে দেশের বাইরের মেলাগুলোতেও সোনারগাঁয়ে জামদানি শাড়ির দোকান বসে। ফলে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সোনারগাঁয়ে জামদানির জনপ্রিয়তা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জানান, জামদানি শিল্প এখন ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়াল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। এ অর্জন আমাদের গৌরবের। বিশ্বে জামদানি শিল্পের একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশে অতি সুপরিচিতি। নান্দনিক সৌন্দর্য্য আর টেকসই বুননের কারণে সোনারগাঁকে আন্তর্জাতিক জামদানী শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ব্যাপার। সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে এ শিল্পকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। গুণগতমান সম্পন্ন জামদানি উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৩শ’ বছর পূর্বে জামদানী তাঁতশিল্প গড়ে উঠে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় জামদানী শিল্পের কাপড় বিক্রি করতে নোয়াপাড়ায় একটি জামদানী শাড়ির হাট প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ বিদেশের পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা জামদানী শাড়ি বেচা কেনার জন্য আসতো এখানে। এক পর্যায়ে জামদানী শাড়ির চাহিদা অপ্রতুল হওয়ায় নোয়াপাড়ার তাঁতীরা শাড়ির চাহিদা পূরণ করতে নজর দেয় তাঁতী বাড়ানোর উপর। এ লক্ষ্যে তারা পার্শ্ববর্তী এলাকা রূপসী, দক্ষিন রূপসী, গন্ধর্বপুর, তারাব, দীঘিবরাব, হাটিপাড়া, যাত্রামুড়া, টাটকী, মৈকুলী, খাদুন এবং সোনারগাঁয়ের বেহাকৈর, কাঁচপুর, গঙ্গাপুর, কাজীপাড়া, ভারগাঁও, নন্দিপুর, দরগাবাড়ী, চিরিপাড়া, ভাটপাড়া, বরগাঁও, আমগাঁও, গনকবাড়ী, লস্করবাড়ী, চোত্রাপাশা, আন্দারমানিক, সাদিপুর, নয়াপুর, তালতলা, বুরুমদী, মহজমপুর ও টানপাড়া এলাকার কিশোর-কিশোরীদের সহযোগী কারিগর হিসেবে কাপড় বুনন শিখায় এবং ধীরে ধীরে কারিগরের সংখ্যা বৃদ্ধি করে কাপড়ের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয় তাঁতীরা। কালের আবর্তে নোয়াপাড়াকে পিছনে ফেলে বর্তমানে শুধু সোনারগাঁয়েই জামদানি কারিগর ও সহযোগী কারিগরসহ জামদানী শিল্পী রয়েছে। তাদের উৎপাদিত জামদানী শাড়ীগুলোও দেশ বিদেশের চাহিদা পূরণ করে আসছে।
আরো জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে তৈরি জামদানী শাড়ি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, ইটালী, শ্রীলংকা, সৌদি আরব, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। তবে, এ রফতানির কাজে জড়িত জামদানি শাড়ি ব্যবসায়ী ও মহাজনরা। তাঁতীদের কাছ থেকে তারা শাড়ি কিনে এনে তা বিদেশে রফতানি করে থাকে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা তাঁতীদের ঘরে ওঠে না। চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের হাতে। প্রতিবছর সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার জামদানি শাড়ি দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইসলামাবাদ, করাচী, লাহোর ও ইউরোপে বসে প্রতিবছর জামদানি শাড়ির মেলা। তাঁতীদের নিপুণ হাতে তৈরি করা জামদানীর পাশাপাশি মেশিনে তৈরি করা জামদানী শাড়িও এখন মার্কেট পাওয়া যায়। তবে সোনারগাঁয়ের হাতে বুনা জামদানীর কদর এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হাতে বুনন করা জামদানী অনেক বেশী টেকসই ও মানসম্পন্ন।


