৫৬ হিমাগারে ১ লাখ ৫ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে।
যা দিয়ে গোটা উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হচ্ছেনা।
বগুড়া অঞ্চলের ৫৬ হিমাগারে ১ লাখ ৫ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। পর্যাপ্ত আলু মজুদ থাকলেও মজুদদারের সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে এখনো আলু বিক্রি হচ্ছেনা। সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারসে বেশি দামে আলু বিক্রি করে চলেছে ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবারও (১৭ সেপ্টেম্বর) বগুড়ায় আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।
বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে শুধু বগুড়ায় আলু সংরক্ষণের জন্য ৪২ টি হিমাগার রয়েছে। এর একটি হিমাগার বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদরে ৯টি, শিবগঞ্জে ১৫টি শাজাহানপুর ৪টি, কাহালুতে ৬ টি, শেরপুরে ৪টি, দুপচাঁচিয়ায় ২টি ও নন্দীগ্রামে ১ টি হিমাগার রয়েছে। আর বিকি হিমাগার জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর ও নৌগাঁ জেলাসহ বগুড়ার আশেপাশের জেলায়।
এই হিমাগার গুলোতে মোট ধারণ ক্ষমতা ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। চলতি বছর আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে খাবার উপযোগী ৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টন এবং বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে ৮৫ হাজার ৯০৪ মেট্রিকটন। গত মে মাসের শেষ থেকে বাজারের কোল্ডস্টোরেজ থেকে আলু আসতে শুরু করে। তবে জুন মাস থেকে পুরোদমে বাজারে আলু আসতে শুরু করে।
এবছর আলুর কোন সংকট না থাকলেও শুরু থেকেই আলুর দাম বেশি ধরে স্টোরেজ থেকে আলু খালাস শুরু করে ব্যবসায়ীরা। বগুড়ার বাজার অনুযায়ী মার্চ এপ্রিল মাসে যখন আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা হেয়েছে তখন বাজার দর ছিলো ১৩ থেকে ১৪ টাকা কেজি। হিমাগার ভাড়া প্রতিকেজি ৪ টাকা ৬৭ পয়সা, বাছাই খরচ ৪৫ পয়সা, ওয়েট লস ৮৮ পয়সা।
অর্থাৎ এক কেজি আলু সংরক্ষণ বাবদ তখন সর্বোচ্চ ছিলো ২০ টাকা। কৃষি বিপনন আইন ২০১৮ অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে লভ্যাংশ ২৫ শতাশ এবং খুচরা পর্যায়ে লভ্যাংশ ৩০ শতাংশ। এ অনুযায়ী পাইকারী মূল্য সবোচ্চ ২৫ টাকা এবং খুচরা মূল্য সর্বোচ্চ ৩২ টাকা হতে পারে বলে মত দিয়েছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বগুড়ার কর্মকর্তারা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতাজ হক জানান, বগুড়ায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। এদিকে বগুড়ায় এই আলু বগুড়ার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মেটাতে পারবে।
এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুরসহ প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত আলুর উৎপাদন হয়েছে। দেশে আলুর কোন সংকট না থাকার পরও দাম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়ার সূত্রমতে বগুড়ায় এবছর ৫৩ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১শ মেট্রিট টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন খাবার ও বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।


