:: নগর প্রতিদিন প্রতিবেদন ::
শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার মহাসপ্তমী। শাস্ত্রমতে এ দিন ষোড়শ উপাচারে পূজিত হবেন দেবী। সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে উৎসব চলবে আগামী রোববার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।
এর আগে গতকাল বুধবার মহাষষ্ঠীতে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটে এ বছরের শারদোৎসবের। এদিন দুর্গতিনাশিনী দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের প্রথম দিনে গতকাল ষষ্ঠীতিথিতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়। সকাল ৮টা ১ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। এ সময় বেলতলা কিংবা বেলগাছের নিচে দেওয়া হয় ষষ্ঠীপূজা। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস ছাড়াও সব মণ্ডপে ছিল পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতির আয়োজন। সন্ধ্যায় অনেক মণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনা ও সংগীতানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
এদিকে গতকাল মহাষষ্ঠীর দিনে সারাদেশেই পূজা মণ্ডপগুলোতে ছিল আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঢাকা মহানগরীর ২৫২টিসহ সারাদেশের ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপে গতকাল দুর্গাপূজার প্রথম দিনে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকে যোগ দিতে দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মাধ্যমে এ দিন দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে স্বাগতম জানান পূজারি ও ভক্তকুল।
পূজাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল সারাদেশে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপির পাশাপাশি কোথাও নিযুক্ত করা হয় সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের ছিল সতর্ক পাহারা। অনেক মণ্ডপে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে কড়া তল্লাশির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হয়েছে। তবে এতসব কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছেদ ফেলেনি পূজার আনন্দমুখরতায়। যদিও এ দিন রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় তেমন দেখা যায়নি। আয়োজকরা জানান, আজ মহাসপ্তমীতে ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে। কাল শুক্রবার মহাঅষ্টমী থেকেই মূলত মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নামবে।
কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের মণ্ডপের সামনে বিশাল প্যান্ডেল ছাড়াও মন্দিরকে সাজানো হয়েছে নতুন রং, সাজ ও আলোকসজ্জায়। এখানে পুলিশের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে। বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সকাল ও সন্ধ্যায় ষষ্ঠীপূজার নানা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এখানে। পূজা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতি ছিল উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। পূজার পাশাপাশি মন্দির চত্বরে আয়োজিত হচ্ছে মেলা।
একই অবস্থা গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল পূজামণ্ডপেও দুর্গাপূজা শুরু হয় সাড়ম্বড়ে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের মণ্ডপে সন্ধ্যায় গত বছরের প্রতিমা মন্দিরের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। মণ্ডপসহ পুরো প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বাহারি সাজে। হিন্দু অধ্যুষিত পুরান ঢাকার অলিগলিতেও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
এ ছাড়া বনানী পূজামণ্ডপ, রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপ, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, শাঁখারীবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী পূজামণ্ডপ, পান্নিটোলা, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির, অভয়নগর দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজার পঞ্চানন শিবমন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, উত্তর মৈশুণ্ডিসহ বিভিন্ন মন্দির এবং মণ্ডপে উৎসবের আমেজে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে।


