জামালপুরের বকশিগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচার দাবিতে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বকশিগঞ্জ পৌর শহরের পাটহাটি মোড় এলাকায় বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়ন, জামালপুর সাংবাদিক ফোরাম ও বকশিগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের যৌথ আয়োজনে সাংবাদিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকনের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে)র সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে সাংবাদিকরা দুপুরে গোলাম রব্বানি নাদিমের গ্রামের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার গোমের চর গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নিহতের কবর জিয়ারত করেন। পরে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন তারা। সমাবেশের শুরুতে রব্বানির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নাদিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, রব্বানি হত্যার ৩৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার এজাহারে থাকা বাকি ১৭ আসামিকে ধরতে না পারায় আমাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, মামলা হওয়ার আগেই এজাহারে থাকা পাঁচ আসামি গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ এজাহারে থাকা বাকি ১৭ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ওই আসামিরাই সশস্ত্র হামলা করেছিল।
হত্যাকাণ্ডের ৩৫ দিনে পুলিশ একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছেন। এতে প্রমাণিত হয় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। প্রশাসন যদি মনে করে, সাংবাদিক সমাজ ঘুমিয়ে আছে, তা হলে আপনারা (স্থানীয় প্রশাসন) ভুল করবেন।
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করতেই হবে এবং সেটি দ্রুতগতিতে করতে হবে। সব আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ ঘরে ফিরবে না।
প্রসঙ্গত, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী নাদিম গত ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্বপালন শেষে রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বকশিগঞ্জ পৌর শহরের পাটহাটি মোড় এলাকায় সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।
১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গত ১৭ জুন নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান বাবু ও তার ছেলে রিফাতসহ ২২ জনের নামে এবং আরো ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বকশিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
নাদিম হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতর করা হয়েছে। তারমধ্যে ৫ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে। সাংবাদিক সমাবেশে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


