ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কারণে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে ভোলার ২০ লাখ মানুষের। এর মধ্যে চরাঞ্চলের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ রয়েছে এক জেলে। দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপ জেলাটি। বিদ্যুৎ আর নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন জেলাবাসী। একই অবস্থা উপকূলীয় বেশ কিছু জেলায়। এদিকে টাঙ্গাইলের বাসাইলে গাছের ডাল পড়ে কাপড় ব্যবসায়ী, সন্দ্বীপ উপজেলায় গাছের ডাল ভেঙে বৃদ্ধ, মীরসরাইয়ে গাছ উপড়ে পড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু, শুক্রবার ভোর রাতে ভারী বর্ষণে টেকনাফে মাটির দেয়াল ধসে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও রামগতিতে অর্ধশতাধিক নৌকাডুবি ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ২০ ট্রলারসহ দুই শতাধিক জেলে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ভোলা : শুক্রবার সকাল থেকেই ভারি বৃষ্টি আর দমকা হাওয়া বইতে থাকে ভোলায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মনপুরা, তজমুদ্দিন ও সদরের ইলিশার মেঘনা নদীতে ১১ জেলেসহ তিনটি মাছধরার ট্রলার ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া একটি ট্রলারের ১০ মাঝি মাল্লা উদ্ধার হলেও তজুমদ্দিনের মলংচড়ার বাসু মাঝি নামে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। বাসু মাঝির সঙ্গে থাকা তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনপুরার আলমপুর ঘাটে নোঙর করে রাখা কবির মাঝির ট্রলারটি ঢেউয়ের আঘাতে ভেসে যায়। ওই ট্রলারটি উদ্ধারে জন্য আরেকটি ট্রলার নিয়ে লতিফ, মিরাজ ও রাজিব নদীতে যায়। এসময় ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলার ডুবে যায়। প্রায় একঘণ্টা নদীতে ভাসমান থাকার পর অন্যদের সহায়তায় মিরাজ, লতিফ ও রাজিব জীবিত উদ্ধার হন।
এছাড়াও ঘাটে বাঁধা অবস্থায় ঢেউয়ের আঘাতে জেলার ২৩টি ট্রলার ভেঙে গেছে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চলাচলকারী ফেরি কুসুম কলি জোরখাল এলাকায় নোঙর করা অবস্থায় ঢেউয়ের পানি ইঞ্জিন রুমে ঢুকে পড়ে। পরে কোস্টগার্ড-ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফেরিটি নিরাপদে আনার কথা জানিয়েছেন ফেরির ম্যানেজার পারভেজ খান। অন্যদিকে একটানা বৃষ্টি ও বাতাস থাকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব লঞ্চ, ভোলা-লক্ষ্মীপুর ও ভোলা- বরিশাল রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে দেশের মূল ভুখন্ড থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপ জেলা ভোলা। সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় নেটওয়ার্ক বিপর্যয়সহ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জেলা বাসীকে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলার কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোলা থেকে রাজধানী ঢাকা বা বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ঝড় থেমে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়-ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে বলে জানান ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান।
টাঙ্গাইল : ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে দমকা হাওয়ায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে গাছের ডাল পড়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রাজ্জাক মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর গ্রামের কুসুম মিয়ার ছেলে। শুক্রবার দুপুরে বাসাইল উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজ পড়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে রাজ্জাক উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে আসলে গাছের একটি ডাল তার মাথার ওপর পড়ে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম: ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সন্দ্বীপ উপজেলায় গাছের ডাল ভেঙে আব্দুল ওহাব (৭১) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল ওহাব মগধরা ইউনিয়নের হানিফ মাঝির বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ। সন্দ্বীপ উপজেলা ইউএনও সম্রাট খীসা বলেন, নিহত ব্যক্তি নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ডাল ভেঙে হঠাৎ ওই ব্যক্ত মারা যান। এছাড়া পুরো উপজেলায় কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মীরসরাইয় : মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু সিদরাতুল মুনতাহার মৃত্যু হয়েছে। মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ উদ্দিন আরজু বলেন, বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় একটি বড় গাছ উপড়ে শিশু সিদরাতুল মুনতাহার ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হয় সে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার : ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ফলে কক্সবাজারের টেকনাফ হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকায় মাটির দেয়াল ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের চার জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনা এলাকার আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে শাহিদুল মোস্তফা, মেয়ে নিলুফা ইয়াছমিন ও সাদিয়া।
লক্ষ্মীপুর: ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনার নদীর তীরে থাকা অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ছোট নৌকা বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি নৌকা। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঝড়ের তাণ্ডবে ওই এলাকার অন্তত ২০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দুপুরে পর ঝড়ো বাতাসের তীব্রতা বাড়ে। নদীতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের তোড়ে বড়খেরী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে থাকা বেদে সম্প্রদায়ের ৫০টির বেশি নৌকা বিধ্বস্ত হয় ও বেশ কিছু নৌকা ডুবেও যায়। এতে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বরগুনা ও পাথরঘাটা : ‘মিধিলি’ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নিশাত নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবি ও আরও ২০টি ট্রলারসহ দুই শতাধিক জেলে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গোপসাগর মোহনায় বরগুনার পাথরঘাটার জনৈক ছালাম মিয়ার এফবি নিশাত নামের ওই মাছ ধরা ট্রলারটি প্রবল ধমকা হাওয়ার ঝাপ্টায় উল্টে যায়। এ সময় পাশে অবস্থানরত অন্যান্য একটি ট্রলারের জেলেরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে। এছাড়া, পাথরঘাটা উপজেলার ২০টি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২০০ জেলের কোনো খোঁজ মিলছে না। তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন খালে শতাধিক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে গেছে। নিখোঁজ জেলে ও ট্রলারের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’ দক্ষিণ স্টেশনে কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, নিখোঁজ ট্রলার ও জেলেদের খোঁজ নিতে অন্যান্য স্টেশনকে জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী: দুপুর ২টা থেকে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির অগ্রভাগ অতিক্রম করছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রাসহ উপকূলীয় এলাকা। দুপুরের পর থেকেই বাতাসের গতিবেগে বাড়তে শুরু করে। ওই সময় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মাহবুবা সুখী। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ পটুয়াখালী ও এর আশপাশের এলাকায় আঘাত হেনেছে। এদিকে জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। দমকা হাওয়ার পাশাপাশি পটুয়াখালী জেলায় গত দুই দিন থেকেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার অধিকাংশ এলাকার আমন ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মিধিলি উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে পটুয়াখালীর দিকে অবস্থান করছে। চার সমুদ্রবন্দরকে আগের ৭ ও ৬ নম্বর সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ উত্তর-উত্তর পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে এবং দুর্বল হয়ে বর্তমানে পটুয়াখালী ও আশপাশের এলাকায় গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরও উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হবে। বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
ঝালকাঠি : ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির’ প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ফলে গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ জেলা শহরে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে লাগাতর বৃষ্টিতে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় শহরের রাস্তা-ঘাটগুলিও অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। সে জন্য সকাল থেকেই জেলা শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝালকাঠি বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যান খোকন হোসেন বলেন, বেশ কিছু স্থানে বিদ্যুতের লাইনে গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তারও ছিড়ে গেছে। ডালপালা অপসারণ করে সংযোগ যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে কাজ চলছে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে ও মিধিলির’ প্রভাবে সকাল থেকে সুগন্ধা ও বিশখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। নদী তীরের মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তবে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা বলেন, ‘অতি বৃষ্টিতে নদীতে সামান্য পানি বাড়লেও তা বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।’
এছাড়া বৃষ্টিতে শুক্রবার সকাল থেকে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না কেউ। শহরের রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। মিধিলির প্রভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির গাছপালার ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেতেরও ক্ষতি হয়েছে। জেলা সদরের পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল ফকির বলেন, বৃষ্টিতে মাঠের আমন ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া শীতকালীন কপি, টমেটো, শাক-পালংসহ শাক-সবজিরও কিছু ক্ষতি হয়ে গেছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, মিধিলির মোকাবেলায় জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় ৪২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৫৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দমকা বাতাসে বৈদ্যুতিক তারে গাছের ডাল পড়ে বরিশাল নগরীর অর্ধেক এলাকা বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন জানান, তার অধীনে ১৬ ফিডারের মাধ্যমে ৬৫ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি গ্রহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজ চলছে।
বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার ফিডারে ৬৪ হাজার গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা নাগাদ ৭০ ভাগ গ্রাহকের বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে গাছের ডাল-পালা অপসারণের কাজ চলছে। রাত ১০টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে।
এদিকে, বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ জানান, বিকাল ৩টা পর্যন্ত বরিশালে ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মিধিলার প্রভাবে বরিশালে সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস বয়। বর্তমানে বৃষ্টিপাত ও বাতাস বন্ধ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আকাশ মেঘলা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাপমাত্রাও হ্রাস পেয়েছে। বরিশালে শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
নগরীর ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা শাহ মুনির জানান, বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার ভোর থেকে মাঝারি ও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ো বৃষ্টি হয়। বিকাল ৩টা পর্যন্ত অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে। এতে ভাটিখানা এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়।
সবচেয়ে বেশি পানি উঠেছে নগরীর বটতলা থেকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা পর্যন্ত সড়কে।
এছাড়া এ সড়কের আশপাশের এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী পারভেজ রুবেল জানান, এ সড়কে মানুষ জাল দিয়ে মাছ শিকারে মেতে উঠেছে। শিশুরা সাঁতার কেটেছে। এ সড়কের আশপাশের অলি-গলিও পানি ডুবে কয়েক হাজার বাসিন্দা পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া নগরীর সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, কেডিসি রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, কালুশাহ সড়ক, বগুড়া রোড, ফকিরবাড়ি রোড, মল্লিক রোড, বাংলাদেশ ব্যাংক গলি, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনের বাসিন্দা পানিবন্দি অবস্থায় আছে।
অতিভারী বৃষ্টির কারণে নগরীসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় কাজ করছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বৃষ্টির পানি কম নামে। নদীর পানি কমে গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা কমে যাবে। নগরীর ড্রেনের ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে পানি নামার গতি বাড়ানোর জন্য পাঁচশত পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে।’
এদিকে, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী কীর্তনখোলা নদীর পানির বিপজ্জনক সীমা হচ্ছে ২.১৪ মিটার। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টায় পানির স্তর ছিল ১.১৩ মিটার।


