নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডেরের ১৭ বছরেও ৩৫/১ পোল্ডারের কাঙ্খিত বেরিবাঁধ এখন হুমকির মুখে। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত শরণখোলা উপজেলার সাউথখালীর মরণপুরী খ্যাত গাবতলা ও উত্তর সাউথখালীবাসির দাবি ছিল টেকশই বেরিবাঁধ। কিন্তু বেরিবাঁধ নির্মান করা হলেও তাতে মাটির পরিবর্তে বালির পরিমান বেশি দেওয়ায় বেশ কিছু যায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ বেরিবাঁধ উপকূলবাসির কাছে স্বপ্নই থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে।
২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বর ভয়ংকর সিডরের করাল গ্রাসে ১৮/২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে উপকূলীয় অঞ্চল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদের তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেরিবাঁধ ৯০ শতাংশ বিলীন হয়ে যায় এবং সহশ্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিদ্ধস্থ সহ, গবাদিপশু ও হাঁসমুরগী মারা যায়। মানুষের মধ্যে দেখা দেয় চরম দূর্ভোগ। সিডর পরবর্তী সময় সরকার, দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সংস্থা দূর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু তাদের ত্রাণের প্রয়োজন থাকলেও এলাবাসির সবচেয়ে বড় দাবি ছিল টেকশই বেরিবাঁধ। পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারী বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৪’শ কোটি টাকা ব্যায়ে ৬২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেরিবাঁধ নির্মান করে। আর তাতে চায়না কোম্পিানির সহযোগীতায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ণ প্রকল্পের (সিইআইপি-১) আওতায় বেরিবাঁধের নির্মান কাজ শুরু করে তা ২০২৪ সালে দায়সারা ভাবে পানি উন্নয় বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করে।
সিডর দূর্গত সাউথখালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদার, মোশোরেফ মেম্বার, রুস্তম আলি ও জাফর খান অভিযোগ করে বলেন, সিডরে আমরা কেউ মা, বাবা, সন্তান ও স্ত্রী হারিয়েছি। কিন্তু সে কষ্ট বুকে থাকলেও কাঙ্খিত বেরিবাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু বেশি ব্যবহার করায় তা এখন হুমকির মুখে পড়েছে। তারা আরও বলেন, ৫ আগষ্ট পূর্ববর্তী শাসক গোষ্ঠির কিছু লোকেরা এখান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করেছে বেরিবাঁধে। গত ৬ মাস আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমেলের তান্ডবে উপজেলার বগি এলাকা থেকে রায়েন্দা রিভার ভিউ পার্ক পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেরিবাঁধের স্লিপার অর্ধেকের বেশি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অন্য দিকে নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় এ বাঁধ রক্ষা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বেরিবাঁধ রক্ষার্থে এলকাবাসির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাসহ পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন রাজিব বলেন, টেকশই বেরিবাঁধ নির্মানের নামে একটি মহল ওই সময় বলেশ্বর নদের বালু বেশি পরিমান ব্যবহার করায় এবং নদী শাসন ব্যবস্থা না রাখায় উপকূলবাসির কাঙ্খিত বেরিবাঁধটি এখন হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মো. আল বিরুনি বলেন, বেরিবাঁধ নির্মানকালিন সময় নদী শাসন ব্যবস্থা না করায় বেরিবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে গত ৬/৭ মাস আগে থেকে ভাঙন কবলিত গাবতলা এলাকায় জিওব্যাগে বালু ভরে ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে নদী শাসন ব্যবস্থার জন্য জাইকার কাছে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। পাশ হলেই ভাঙা অংশ নির্মান সহ নদী শাসন ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমেল পরবর্তী বেরিবাঁধের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নদী শাসন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য পানিসম্পদ ও অর্থ মন্ত্রনালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।


