ঢাকাMonday , 9 December 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চরম বেকায়দায় খেটে খাওয়া মানুষ

Link Copied!

ঘুনকুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চল। সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হুট করেই সূর্যের মুখ বন্ধ হওয়া, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে শীতের দাপট বেড়েছে পুরো উত্তরাঞ্চলজুড়েই। এতে খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়। ঘুনকুয়াশায় বাড়ছে কৃষকদের দুশ্চিন্তা। কাজে বের হতে না পেরে নাজেহাল হচ্ছেন নিম্নবিত্তের খেটে খাওয়া দিনমুজুর শ্রেণির মানুষ।

বিশেষ করে চলতি মাসেই উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। মৃদুশৈত্যপ্রবাহ দিয়ে যা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সূত্র অনুযায়ী, সোমবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্র ছিল ১২দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রোববার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রোববার থেকে আজ সোমবার মাত্র এক দিনের ব্যাবধানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়লেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে গেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক ধাক্কায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিচে নেমে আসায় উত্তরাঞ্চলে মৃদুশৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে।

\রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ্যপর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম জানান, তাপমাত্রা আরো কমে আসবে। চলতি মাসেই উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে দুটি ভারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আপাতত মৃদুশৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা চলতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে, আজ ভোর রাত থেকে রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হয়েছে গঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। আকাশ মেঘলা থাকার কারণে দিনভর দেখা মেলেনি সূর্যের। গঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সাথে ঘনকুয়াশার কারণে রোববার রাত থেকেই শীতের দাপট বেশি ছিল। সোমবার ভোর রাত থেকে থেমে থেমে গঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, চলে বিকেল পর্যন্ত। দিনভর কুয়াশার দাপটও ছিল বেশি। সব মিলিয়ে পুরো উত্তরাঞ্চলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। লোকজন অতিপ্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যায়নি।

যার কারণে রাজশাহী নগরীর রাস্তা-ঘাটও ছিল অনেকটাই ফাঁকা। যানবাহনের সংখ্যাও ছিল কম। দিনমুজুর শ্রেণির মানুষরা কাজের সন্ধানে বের হলেও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও ঘনকুয়াশার কারণে তারা পুনরায় নিজ গন্তব্যে ফিরে আসতে হয়েছে। বিশেষ করে ঘনকুয়াশার কারণে রাস্তা-ঘাটে যানবাহন চলতে দেখা গেছে লাইট জালিয়ে। তবে শীত বাড়ায় রাজশাহীর গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার সমাগম।

অপরদিকে, ঘুনকুয়াশার কারণে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। সামনে চলছে রবি মওসুম। ইতোমধ্যেই অনেক কৃষকের আলু রোপণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এমনকিচারাও গজিয়ে উঠেছে। আগাম জাতের আলু চাষিরা ঘুনকুয়াশায় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মোহনপুরের আলু চাষি রাজু আহমেদ জানান, তিনি এখন পর্যন্ত আগাম জাতের চারবিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। জমিতে উঁকি দিচ্ছে তার আলুর গাছ। কিন্তু এই অবস্থা চললে তার ক্ষতির সম্ভনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কৃষি বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে আকাশ পরিস্কার হয়ে গেলে কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন