:: মো. সাজেদুল হক সাজু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬টি দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীতে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৫টি মসজিদ নির্মাণের সব ধরনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জানা গেছে, জেলা সদরের মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ব্যয়ে ৮৪ ভাগ নির্মাণ, সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯৩ ভাগ, নাচোলে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র একই টাকা ব্যয়ে ৮৫ ভাগ, ভোলাহাটে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র একই টাকা ব্যয়ে ৮৫ ভাগ কাজ, শিবগঞ্জে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র একই টাকা ব্যয়ে ৮৫ ভাগ নির্মাণ কাজ হয়েছে।
তবে গোমস্তাপুরে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জায়গা নতুনভাবে নির্ধারণ করায় এ পর্যন্ত ৫ ভাগ কাজ হয়েছে।
জেলা সদরের ৪ তলা ও প্রতিটি উপজেলায় ৩ তলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
গণপূর্ত অধিদফতরের তত্বাবধানে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের ভৌত অবকাঠামো বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদার রহমান জানান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজে হাতে নেয়।
এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর, নাচোল, ভোলাহাট উপজেলা ও জেলা সদরে নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। জেলা সদরে একসঙ্গে ১২০০ মুসল্লী ও উপজেলা মডেল মসজিদে ৯০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবে।
আধুনিক সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী-পুরুষের পৃথক অজু ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়াও থাকছে কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশুশিক্ষা, অতিথিশালা, লাইব্রেরি, পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, মেহমানখানা, প্রতিবন্ধী মুসল্লীদের পৃথক নামাজসহ ও টয়লেটের ব্যবস্থা, লাশ গোসলের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন জানান, জেলা সদরসহ ৪টি উপজেলায় মডেল মসজিদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এখন শুধু রং, টাইলস আর মার্বেল পাথরের কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া গোমস্তাপুরে মাটি ভরাটের কাজ শুরুর পাশাপাশি মূল কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালির মাধ্যমে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের কথা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। এখানকার লাইব্রেরি থেকে ইসলামের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে তরুণ প্রজন্ম।


