ঢাকাTuesday , 4 March 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইটভাটায় জ্বলছে আগুন,পুড়ছে ফসলি জমির প্রাণ

Link Copied!

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এবং আবাসিক এলাকা ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কৃষিজমির বাণিজ্যিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কৃষিজমি সুরক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার ফলে কৃষিজমির যথেচ্ছাচার ব্যবহার করে নষ্ট করা হচ্ছে। বড় ধরনের বিপর্যয়ের আগেই কার্য্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরাইলে বৈধ-অবৈধ ইটভাটায় জ্বলছে আগুন ,পুড়ছে ফসলি জমির প্রাণ।প্রতি বছরই কমছে ফসলি জমি।এছাড়া,সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা উচ্ছেদ এবং বৈধগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণে কার্যত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি মাঠ পর্যায়ে।

সরাইল উপজেলা ইটভাটা সংশ্লিষ্টরা বলেন,মানুষের নিত্য নতুন আবাসন, রাস্তাঘাট আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে কৃষিজমিতেই। কমছে কৃষি জমি। দিনের দিন মানুষ বাড়ছে। ফলে আবাদী জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে বসত বাড়ি,স্থাপনা। ইট ভাটা হচ্ছে কৃষিজমি পরিণত হচ্ছে স্থায়ী অনাবাদী জমিতে।

এদিকে অফিসের তথ্য মতে,২১৫.২৮ বর্গকিমি আয়তনের সরাইল প্রায় ২,৭১,১০১ মানুষের বাস। উপজেলা মোট জমি আবাদী জমির পরিমাণ ২১,৭,২০ হেক্টর উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে চিত্রটা অনেকটাই ভিন্ন।এ উপজেলায় প্রায় ২৯টি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় কয়েক মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে ওইসব ভাটায়। যার বিরুপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, কৃষি ও প্রাণী জগতে। জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকিতে।

জমি থেকে কাটা হচ্ছে ইট তৈরির মাটি।ইট তৈরির প্রধান উপকরণ বিপুল পরিমাণ মাটির যোগান দিতে প্রতি বছরই ২-১ শ বিঘা ফসলি জমি জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। এ নিয়ে সম্প্রতি কালিকচ্ছ এলাকার কৃষক প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করলেও কোনো কাজে আসেনি। ভিকু দিয়ে এখনো ফসলি জমির মাটি কেটে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় প্রায় -২৯ ইটভাটা রয়েছে তবে কিছু ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দূষণের কবলে পড়েছে পুরো এলাকা। গণবসতী এলাকা ও ফসলি জমিতে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠায় হ্রাস পেয়েছে খাদ্যশস্য উৎপাদন। নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, বসতবাড়ির ফলজ-বনজ গাছপালা।

গতকাল সরেজমিন কালিকচ্ছ ইউনিয়নের আকাশী বিলে দেখা গেছে, প্রকাশ্য দিবালোকে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ট্রলি যোগে নেয়া হচ্ছে পার্শ্ববর্তী কোম্পানির ইটভাটায়।

স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও চলে মাটি কাটা। ফসলি জমি রক্ষায় ২০১৩ সালের পরিবেশ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ) আইন যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নিবেএমন আশা রাখে জমির মালিকসহ সচেতন সরাইল উপজেলাবাসী।

এ প্রসঙ্গে সরাইল উপজেলা ইটভাটা মালিকরা জানান, ইটভাটার যে মাটি কাটা হচ্ছে তা এক ফসলি জমি।যা জমির কোন ক্ষতি হয় না। তবে সরাইলে প্রায়-২৯ টি ইটভাটা থাকলেও কিছু ইটভাটা বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.একরাম হোসেন বলেন, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ভাবে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে। তবে সরাইল উপজেলায় ব্যাপকহারে ইটভাটা গড়ে উঠার কারণে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে সচেতন করতে।

এ ব্যপারে সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সিরাজুম মুনীরা কায়ছান বলেন,সরকারি আইনকে অমান্য করে ইটভাটা পরিচালনা ও ফসলি জমির মাটি কাটার সাথে জড়িতদের আইনের আয়ত্তে আনা হবে।তিনি বলেন নতুন করে আর কোন ইটভাটাকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, প্রায় ২৯ টি ইটভাটা রয়েছে।ইতোমধ্যেই আমরা অনেক অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।কোনো ফসলি জমি থেকে মাটি কাটতে দেয়া হবে না। অবৈধ ইটভাটা চলতে দেয়া হবেনা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন