বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু গয়েস্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, কাফনের কাপড় পরার প্রয়োজন হলেও বিটি মাঠে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবেই। যুগ যুগ ধরে এই মাঠে বাঙালি সংস্কৃতির বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে় আসছিল।
গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে আমরা এই মাঠে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহনকারী বৈশাখী মেলা আয়োজন করতে পারিনি। ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার পতনের পর আজ আমরা মুক্ত। তিনি গতকাল দুপুরে আসন্ন বৈশাখী মেলা উপলক্ষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিটি মাঠ পরিদর্শন কালে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন ১৮৪২ সাল থেকে এই খেলার মাঠটি বিটি মাঠ হিসেবে পরিচিত। এই খেলার মাঠটি তেগুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। গত ১৭ বছরে মাঠটির মালিকদের জমি অধিগ্রহণ না করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ক্ষমতা অপব্যবহার করে এই খেলার মাঠটি তার পিতা হামিদুর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামে নামকরণ করেন। পরে জানা যায় এই মাঠটি ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডর অধীনে চলে যায়।
এই বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে। তবে স্কুল কমিটিকে এবং মাঠের মূল মালিকদের না জানিয়ে় কিভাবে ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ড মাঠটি তাদের অধিনে নিল এ ব্যাপারে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, প্রাচীন কাল থেকেই এই মাঠে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে ঘুড়ি উৎসব,বৈশাখী মেলাসহ গ্রামীণ সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করা হতো। কালের বিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়ে়ছিল। ৫ আগস্টের পর দেশ এখন মুক্ত।
জনগণ এখন স্বাধীন। আমি মুক্ত কণ্ঠে বলতে চাই জনগণ স্বাধীনভাবে এই মাঠেই বৈশাখী মেলা ব্যাপক আনন্দ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে় পালন করবে।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায ়চৌধুরী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু,বিএনপি নেতা ওমর শাহনেওয়াজ, মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ, যুবদল নেতা মাহবুব আলম স্বাধীন, আতিকুর রহমান মানিক, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মোঃ সোহেল রানা, এডভোকেট শাহিন, শ্রমিক দল নেতা মো. শাহিনসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মাঠে উপস্থিত থাকাকালীন অবস্থায সেকানে আসেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জের রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল( দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজাহার সুমন।
এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তাদেরকে সাথে নিয়ে আবার মাঠটি পরিদর্শন করেন। অপরদিকে মাঠে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।


