নানা জল্পনা কল্পনা এড়িয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠিন জবাব দিয়ে় অবশেষে কেরাণীগঞ্জের বিডি মাঠেই হচ্ছে কেরাণীগঞ্জের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা। যুগ যুগ ধরে এই মাঠে বাঙালি সংস্কৃতির বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে় আসছিল।
গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে এই মাঠে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহনকারী বৈশাখী মেলা আয়োজন খেকে বিরত ছিলো ।
ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার পতনের পর, মুক্ত বাতাসে মুক্ত কন্ঠে পাখির মত ডানা মেলে ছুটে চলবে ছোট ছোট সোনামোনিরা,দলে দলে গ্রামীণ সাজে লোকজনের ঢল নামবে বিটি মাঠে বিনেদোন পেতে, এমন ভাবনা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু গয়েস্বর চন্দ্র রায়ের। তার মতে প্রাচীন কাল থেকেই এই মাঠে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে ঘুড়ি উৎসব,বৈশাখী মেলাসহ প্রামীণ সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করা হতো।
কালের বিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর দেশ এখন মুক্ত। জনগণ এখন স্বাধীন। এদিকে মাঠটিকে কেন্দ্র করে কিছু আওয়ামী দোসর দালল সাংবাদিক ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক বাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলাকে ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করতে ছিল।
পরিশেষে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কঠিন সিদ্ধান্তে ধামাচাপায় পড়ে সকল ষড়যন্ত্র। তিনি মাঠ পরিদর্শনে এসে বলেন কাফনের কাপড় পরার প্রয়োজন হলেও বিটি মাঠে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবেই। তার এমন বক্তব্যে দুমড়ে় মুচড়ে যায় সকল ষড়যন্ত্রিকারীদের নীল নকশা। আজ রোববার তিনি ঢাকা ডিসি অফিস কর্তৃক মেলা অনুমোদনের একটি চিঠি পান। এতে করে এলাকা স্বস্তি এবং জনগণের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , মাঠের বাহিরে অংশে রঙবেরঙের কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী স্টল। প্রধান ফটকে ডেকোরেশন করে হচ্ছে বিশাল বৈশাখী গেট। মাঠে অবস্থানরত ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেরাণীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিন শাখা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট রিপন রায় চৌধুরী বলেন,বাংলার সাংস্কৃতি পহেলা বৈশাখ ধরে রাখতে দাদার এক বিশেষ আয়োজন। কিছ অসাধু আওয়ামী লীগের দালাল সাংবাদিক ও একটি কুচক্রী মহল বাংলার সাংস্কৃতিককে অস্বীকার করে চক্রান্তে মেতেছিল। সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে, অবশেষে বিটির মাঠে বৈশাখীর মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখার কষক দলের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শাহীন বলেন প্রাচীনকাল থেকে এই বিটি মাঠে ঘুড়ি উৎসবসহ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হত। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এতদিন এই মেলা বন্ধ ছিল। এটা একটা জাতীয় উৎসব দলবল নির্বিশেষে আমরা এটা পালন করে থাকি, এটা আমদের প্রাণের উৎসব মনে করি।
তেঘরিয়া ইউনিয়নের বিএনপির আহবায়ক খোরশেদ আলম জমিদার বলেন, অতিতে আমরা দেখে এসেছি এই মাঠে বৈশাখী মেলা বসতো। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করতো প্রানের উৎসব বৈশাখের মেলার জন্য। এই মেলাকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে তৈরী হত নানান ধরনের মিষ্টান্য। গৃহবধুরা ব্যাস্ত থাকতো কুটির শিল্পে। বাংলার সাংস্কৃতির একটি প্রতিছবি বৈশাখী মেলা।
মেলার মাঠে উপস্থিত ছিলেন, কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু,বিএনপি নেতা ওমর শাহনেওয়াজ, মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ, ঈশাখা, আসাদখান, হাজী শহিদুল,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মাহবুব আলম স্বাধীন, আতিকুর রহমান মানিক, মুজাহিদুল ইসলাম মামুন,শাহাদাদ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো. সোহেল রানা, অ্যাডভোকেট শাহিন, রাশিদা বেগম, নারগীস আক্তারসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


