ঢাকাWednesday , 9 April 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লন্ডন প্রবাসীর বাড়িতে হামলা: অবৈধ সম্পর্ক ও সন্তানের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আহত ১

Link Copied!

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে লন্ডন প্রবাসী মো:হাবিব রহমানের পারিবারিক বাসভবনে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ এপ্রিল ২০২৫, স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শতাধিক উত্তেজিত লোকজন হাবিবের বাড়িতে হামলা চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলায় হাবিবের বাবা গুরুতরভাবে আহত হন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাবিবের মা, ভাই ও বোনসহ আরও পাঁচজন প্রাথমিকভাবে আহত হন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই, হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী আফরিন সুলতানা রিফা লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে গমনের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তারা আলাদা বসবাস করতে থাকেন। এই সময়ে হাবিব এক সহকর্মী শারমিন আক্তারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যিনি নিজেও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

পরবর্তীতে, এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে শারমিন গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। বিষয়টি শারমিনের পরিবার জানতে পারলে তারা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর পারিবারিক একটি সূত্রের মাধ্যমে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শারমিন ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়, সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করা হয় এবং নানাভাবে অপমানজনক ভাষায় হেয় করা হয়। স্থানীয় একটি চক্র শারমিনের নবজাতক সন্তানকে “জারজ” বলে কটূক্তি করতে থাকে এবং তাকে সমাজচ্যুত করার দাবি তোলে। ফলে শারমীনের আত্মিয় স্বজনরা হাবিবের উপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে পড়ে এবং এই হামলায় ইন্ধন যোগায়।

গত ৮ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কিছু নেতা, বিশেষ করে হেফাজত নেতা মাওলানা আব্দুল কাইউম এবং জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে, শতাধিক উত্তেজিত লোকজন মো:হাবিব রহমানের বাড়িতে একযোগে আক্রমণ চালায়। তারা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, অগ্নিসংযোগ করে এবং হাবিবের পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। হাবিবের মা, ভাই ও বোন সামান্য আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই সহিংস ঘটনায় হাবিবের সাবেক স্ত্রীর প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজন এবং শারমিনের আত্মীয়দের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বড় ভূমিকা রেখেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার তথ্য হেফাজত ও জামায়াত নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, এবং তাদেরকে প্রভাবিত করা, যার ফলেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং হামলার মতো ঘটনা ঘটে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী বলেন, “শোনা যাচ্ছে, হাবিবের বাবা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন, যার ফলে রিফা ও শারমিনের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে এই আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়।” স্থানীয় রিকশাচালক মফিজ সরদার বলেন, “ঘটনার সময় বারবার থানায় ফোন করা হলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “এখনও পর্যন্ত থানায় এই সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে কেউ অভিযোগ জানালে, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আরজ আলী বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

লন্ডন প্রবাসী মো:হাবিব রহমানের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং তার ফলে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি চরমপন্থী সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং সহিংস হামলার ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের নীরবতা এই ঘটনার ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন