ঢাকাThursday , 17 April 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা খুন

Link Copied!

রাজশাহী মহানগরীতে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের হামলার আকরাম আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাত ১০ টার দিকে রাজশাহী নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় তার ওপর হামলা করা হয়। আকরাম আলী (৪৫) নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার মৃত আজদার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় বাসচালক ও রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন।
এ ঘটনায় তার ছেলে হাসান ইমাম আজ বৃহস্পতিবার নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে বাবার লাশ বাসায় রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে মেয়ে রাকিয়া। বাবার লাশ বাসায় রেখে বৃহস্পতিবার সকালে সে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
মামলার আসামীরা হলো, নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার কালু মিয়ার ছেলে নান্টু (২৮), মৃত রতন মিয়ার ছেলে বিশাল (২৮), মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে খোকন মিয়া (২৮), শাহীনের ছেলে তাসিন হোসেন (২৫), অমি (২০), নাহিদ (২৫) ও শিশির (২০)।
মামলা বিবারণীতে উল্লেখ্য করা হয়েছে, সম্প্রতি আসামী নান্টু তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদ করেছিলেন আকরাম। ওই নারী আকরামের স্ত্রীর আত্মীয়। এতে ক্ষিপ্ত হন নান্টু। তিনি আকরামের মেয়ে ও ছেলেকে ক্ষতি করার হুমকি দেন। এরপর থেকে নান্টু বখাটেদের দিয়ে আকরাম আলীর মেয়ে রাকিয়াকে উত্ত্যক্ত করাতেন। বুধবার নান্টু নিজেই রাকিয়াকে গালিগালাজ করে। রাকিয়ার বাবা আকরাম এ বিষয়ে নান্টুর মা-বাবার কাছে নালিশ করেন। পরে বুধবার রাত ১০টার দিকে নান্টু তার সহযোগীদের নিয়ে নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় আকরাম ও তার ছেলে হাসান ইমামের ওপর হামলা চালায়। ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন আকরাম। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার বৃহস্পতিবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। বাবার লাশ রেখে রাকিয়া আলফি রাজশাহী শিরোইল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। সে রাজশাহীর অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তাদের শিক্ষার্থী রাকিয়া আলফির বাবাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নিহত আকরাম আলীর স্ত্রী মুক্তি বেগম জানান, নান্টু মাঝেমধ্যেই স্ত্রীকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। কিছুদিন আগে মারধর করার সময় তার স্বামী ওই গৃহবধূকে রক্ষা করতে যান। এতে নান্টুর গায়ে সামান্য আঘাত লাগে। তখন থেকে সে ক্ষিপ্ত ছিল, মেয়েকে উক্ত্যক্ত করত। এর প্রতিবাদ করায় তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। মুক্তি বেগম কান্নারত অবস্থায় বলেন, ‘বাবার লাশ রেখে কেউ পরীক্ষা দিতে যেতে চায়? মেয়েটা কান্নাকাটি করে পরীক্ষা দিতে গিয়েছে। হত্যাকারীদের যেন ফাঁসি হয়।’

এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দ্রুতই আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল আকরামের লাশ নিয়ে হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মিছিল করা হয়। এসময় এলাকার সাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন